SIR নিয়ে মানসিক চাপে মৃত প্রাক্তন রেলকর্মী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় শুনানির ডাক পেয়েছিলেন ৭০ বছরের প্রাক্তন রেলকর্মী নারায়ণচন্দ্র সেনগুপ্ত। সোমবার ছিল সেই শুনানি। কিন্তু তার আগেই রবিবার আত্মহত্যা করলেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, সালানপুর ব্লকে চলা এসআইআর প্রক্রিয়ার মানসিক চাপে এই চরম সিদ্ধান্ত নেন ওই বৃদ্ধ।
পরিবারের দাবি, কোন কোন নথি বৈধ আর কোনটি নয় এই নিয়ে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা পিএফ পেনশন বুকও গ্রহণযোগ্য নথি নয় এই ধরনের খবরেই ভীষণ দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন নারায়ণচন্দ্র সেনগুপ্ত। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে রবিবার দুপুরে নিজের বাড়িতেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
রবিবার হিন্দুস্তান কেবলস সংলগ্ন অরবিন্দ নগরের ৭ নম্বর রাস্তায় ঘটনাটি ঘটে। মৃত নারায়ণচন্দ্র সেনগুপ্ত চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। বয়স ৭০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রূপনারায়ণপুরে বসবাস করছিলেন। স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার। তিন মেয়েরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন শুরু হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর এবং তাঁর ছোট মেয়ে সঞ্চিতার নাম নেই। এই বিষয়টি তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। যদিও তিনি বিএলও-কে বিষয়টি জানালে শুনানিতে কোনও অসুবিধা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
এলাকার বাসিন্দা ও সমাজকর্মী প্রিন্স দাস জানান, গত কয়েকদিন ধরেই নারায়ণবাবু খুব চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন। রবিবার সকালে তিনি সেলুনে দাড়ি কাটান, বাজার করেন এবং তারপর স্ত্রী ও ছোট মেয়ের হাতে বাজারের থলে দিয়ে দোতলার ঘরে চলে যান। দীর্ঘ সময় নীচে না নামায় ডাকাডাকি করা হলে কোনও সাড়া মেলেনি। পরে উপরে গিয়ে দেখা যায়, বিছানার চাদর দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর বড় মেয়ে সুলেখা সেনগুপ্তের নামের পাশে পিতা হিসেবে নারায়ণচন্দ্র সেনগুপ্তের নাম রয়েছে। যদিও ওই তালিকায় তাঁর নিজের নাম নেই। ছোট জামাই লাল্টু দাস বলেন, “পরিবারে কোনও অশান্তি ছিল না। হয়তো নির্বাচন কমিশনের ঘনঘন সিদ্ধান্ত বদল এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারই বয়স্ক মানুষদের মনে অযথা ভয় তৈরি করছে।”
এ ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, “শুনানির নামে মানুষকে, বিশেষ করে বয়স্কদের ও মহিলাদের মারাত্মক মানসিক চাপে ফেলা হচ্ছে। এই মৃত্যুর জন্য বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন দায়ী।”
অন্যদিকে বিজেপি অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, “তৃণমূল মিথ্যা প্রচার করছে। যেকোনও অস্বাভাবিক মৃত্যিকেই এসআইআর-এর ফল বলে চালানো হচ্ছে। আসলে তৃণমূলই মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে।”
