কালীঘাটে পুজো দিয়ে ভবানীপুরে প্রচার শুরু শুভেন্দুর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। আর সেই যুদ্ধের ‘এপিসেন্টার’ হয়ে উঠেছে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র। শনিবার সকালে দক্ষিণেশ্বর বা তারাপীঠ নয়, একেবারে তৃণমূল সুপ্রিমোর খাসতালুক কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার অভিযান শুরু করলেন বিজেপি প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছান শুভেন্দু। সেখানে নিষ্ঠাভরে পুজো দেন তিনি। শুভেন্দুর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুজো দিয়ে বেরিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, এই লড়াই ন্যায়ের লড়াই। পুজো শেষ করেই ভবানীপুর বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগে নামার কথা শুভেন্দুর। বিজেপি সূত্রে খবর, তিনি আজ এলাকার আদি বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন। নিচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। ভবানীপুরের কর্মসূচি সেরে বেলাতেই তিনি নিজের অন্য কেন্দ্র নন্দীগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
এই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী দুটি কেন্দ্র থেকে লড়ছেন— ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম। ভবানীপুরে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরই ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া এলাকায় প্রচারে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল শুভেন্দুকে। সেখানে তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। পাল্টা স্লোগান দেন বিজেপি কর্মীরাও। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে শুভেন্দুকে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে হয়। তাঁর দাবি, বিজেপি কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।
ভবানীপুর তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত। শুভেন্দু যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর হুঙ্কার দিচ্ছেন, তখন তৃণমূল নেতৃত্ব একে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, “ভবানীপুরে আমিই জিতব। আমি শুধু ভবানীপুর নিয়ে ভাবছি না, লক্ষ্য এখন গোটা রাজ্য। ভবানীপুর থেকেই জয়ের সেই জোয়ার শুরু হবে।” অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, গতবারের মতো এবারও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ছাব্বিশের ভোটে ভবানীপুর কেন্দ্রটি কার্যত ‘মানসম্মানের লড়াই’ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই পক্ষের কাছেই। শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরের মানুষ কার দিকে রায় দেন, এখন সেটাই দেখার।
