জামিন পেলেন শান্তিপ্রসাদ সিনহা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অবশেষে স্বস্তি পেলেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শান্তিপ্রসাদ সিনহা। শুক্রবার ইডির দায়ের করা অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাস থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয়। দীর্ঘ চার বছর সংশোধনাগারে থাকার পর অবশেষে মুক্তির পথ প্রশস্ত হল প্রাক্তন চেয়ারম্যানের।
আদালত জামিন মঞ্জুর করলেও একাধিক কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁকে নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা রাখতে হবে। তদন্তকারী আধিকারিকের অনুমতি ছাড়া বাসস্থানের ঠিকানা পরিবর্তন করা যাবে না। দেশের বাইরে যাওয়ার উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ও যোগাযোগের সমস্ত তথ্য তদন্তকারী সংস্থাকে জানাতে হবে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই শর্তগুলির কোনওটি লঙ্ঘিত হলে জামিন বাতিল হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার দায়ের করা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগেই জামিন পেয়েছিলেন শান্তিপ্রসাদ। কিন্তু একই ঘটনায় ইডির দায়ের করা অর্থপাচার মামলায় জামিন না মেলায় তাঁর জেলমুক্তি সম্ভব হয়নি। সেই মামলা দীর্ঘদিন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন ছিল। এদিন সেই মামলার শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করায় চার বছর পর তাঁর মুক্তির রাস্তা খুলে গেল।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, প্রভাব খাটিয়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। মেধাতালিকায় কারচুপি, নম্বর পরিবর্তন, নিয়মবহির্ভূত সুপারিশ এমন একাধিক অনিয়মের কথা তদন্তে উঠে আসে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। চার্জশিটে একাধিকবার প্রাক্তন চেয়ারম্যানের নাম উল্লেখ করা হয়। সেই সূত্রেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়।
এই মামলায় আগেই জামিন পেয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জী। তারপর এবার শান্তিপ্রসাদের জামিন মঞ্জুর হওয়ায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায় শুরু হল বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ বা অপ্রমাণ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের উপর নির্ভর করবে।
নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধীরা শুরু থেকেই শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। অন্যদিকে শাসকপক্ষের দাবি, আইন অনুযায়ী তদন্ত চলছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এদিনের জামিন আদেশ সেই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।
সব মিলিয়ে, চার বছরের কারাবাসের পর প্রাক্তন স্কুল সার্ভিস কমিশন চেয়ারম্যানের মুক্তির পথে আর বাধা রইল না। তবে আদালতের আরোপিত শর্ত মেনে তাঁকে চলতে হবে এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত নিয়োগ দুর্নীতি মামলা ঘিরে বিতর্ক ও আলোচনা যে থামবে না, তা বলাই
