৩ কোটির বেশি ব্যয়ে পুনর্নির্মাণ,আগুন-নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের শতাব্দীপ্রাচীন হলং বনবাংলো খুব শিগগিরই নতুন রূপে ফিরতে চলেছে। রাজ্য সরকার পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর অর্থ বরাদ্দ ও নকশা প্রস্তুত হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলা প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পুরনো কাঠের আদলেই তৈরি হবে নতুন হলং বনবাংলো। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থাকে বরাত দিয়েছে বনদপ্তর। উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ বিভাগের মুখ্য বনপাল ভাস্কর জেভি জানিয়েছেন, ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়ে গিয়েছে এবং খুব দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ জুন রাতে ভয়াবহ আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় ১৯৬৭ সালে নির্মিত এই কাঠের বনবাংলোটি। তদন্তে জানা যায়, তিনতলার একটি ঘরে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। আট কক্ষবিশিষ্ট এই ঐতিহ্যবাহী বাংলোকে রাজ্য পর্যটনের ‘কোহিনূর’ বলেই মনে করেন অনেকে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে এই বাংলোকে ঘিরে।
নতুন নির্মাণে সেই আবেগের মর্যাদা রাখতেই পুরনো কাঠের চেহারা অক্ষুণ্ণ রাখা হচ্ছে। যদিও মূল কাঠামো কংক্রিটের হবে, তার উপর শাল, সেগুন ও পাইন কাঠ দিয়ে ভিতর ও বাইরেটা সম্পূর্ণ কাঠের মতো সাজানো হবে। তিনতলা এই ভবনের দেওয়ালে থাকবে উডেন ক্ল্যাডিং। ভিতরে শাল কাঠের ফ্রেমে পাইন কাঠের আবরণ এবং বাইরে শাল ফ্রেমের উপর সেগুন কাঠের মোড়ক থাকবে। কাঠ সরবরাহ করবে বনদপ্তর নিজেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আগুনের পুনরাবৃত্তি এড়াতে থাকছে বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে ঐতিহ্য ও আধুনিক নিরাপত্তার সমন্বয়ে নতুন রূপে ফিরতে চলেছে উত্তরের আবেগ—হলং বনবাংলো। এখন পর্যটক মহলের চোখ সেই বহুল প্রতীক্ষিত উদ্বোধনের দিনটির দিকে।
একটি অগ্নিকাণ্ডে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে আবার ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। পুরনো স্মৃতি ও আধুনিক নিরাপত্তার মেলবন্ধনে গড়ে উঠতে চলা নতুন হলং বনবাংলো শুধু একটি ভবন নয়, উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও আবেগের প্রতীক হিসেবেই আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে চলেছে।
