মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে উত্তাল সংসদ: ১৯৩ সাংসদের স্বাক্ষর নিয়ে সরব ‘ইন্ডিয়া’ জোট
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে এবার দেশের নির্বাচন কমিশন। পক্ষপাতিত্ব এবং ভোটাধিকারে বাধার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ বা ইমপিচমেন্টের দাবিতে সরব হলো বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। তৃণমূল কংগ্রেসের বিশেষ উদ্যোগে আজই সংসদে এই মর্মে একটি প্রস্তাব জমা দিতে চলেছে বিরোধী শিবির।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে আনা এই প্রস্তাবে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মোট সাতটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনে তিনি পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন। নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করেছেন।
এসআইআর-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার নেপথ্যে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।
তৃণমূল সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে আনা এই প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে মোট ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর সংগৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন, লোকসভা: ১৩০ জন সাংসদ। রাজ্যসভা: ৬৩ জন সাংসদ।
সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের বিচারপতির অপসারণের মতোই জটিল। এর আগে ভারতে কোনো মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে এই পর্যায়ের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখছে।
১. প্রস্তাবটি স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হবে।
২. তাঁরা সবুজ সংকেত দিলে একটি ৩ সদস্যের কমিটি গঠিত হবে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে।
৩. কমিটির ছাড়পত্র মিললে প্রস্তাবটি সংসদে পেশ হবে এবং আলোচনার পর ভোটাভুটি হবে।
ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দীর্ঘ এবং এটি সফল করতে হলে সংসদে যে বিপুল সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন, তা বর্তমান সমীকরণে বিরোধীদের জন্য যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
