‘জয় মা কালী’ লিখে বাংলায় মোদীর খোলা চিঠি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লেখা একটি খোলা চিঠি। চিঠির শুরুতেই রয়েছে ‘জয় মা কালী’ উচ্চারণ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সূচনাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগকে গুরুত্ব দিয়েই বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গ নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। কর্মসংস্থান, শিল্পোন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার জেরে সাধারণ মানুষ প্রকৃত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের মানুষ পুরোপুরি পাচ্ছেন না বলেও ইঙ্গিত করেছেন তিনি। তবে পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেছেন, কেন্দ্রের উদ্যোগে বহু মানুষ ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, গ্যাস সংযোগ, পেনশন ও স্বাস্থ্য-পরিষেবার সুবিধা পেয়েছেন।
চিঠিতে উঠে এসেছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) প্রসঙ্গও। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশ রুখে রাজ্যের নিরাপত্তা জোরদার করার আশ্বাসও দিয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বার্তা বিশেষ ভোটব্যাঙ্কের দিকে লক্ষ্য রেখেই দেওয়া হয়েছে।
বাংলার মন জয়ের লক্ষ্যে চিঠিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে রাজ্যের ঐতিহ্য ও মনীষীদের অবদান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,সুভাষচন্দ্র বোস,শ্রী অরবিন্দ ঘোষ এবং স্বামী বিবেকানন্দের নাম উল্লেখ করে বাংলার গৌরবময় অতীতের কথা স্মরণ করিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই মনীষীদের আদর্শ থেকেই শক্তি নিয়ে নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’।
প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে আরও লিখেছেন, বাংলার যুবসমাজকে কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না এমন পরিবেশ তৈরি করাই তাঁর লক্ষ্য। মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা এবং স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। বাংলায় “সেবা” করার সুযোগ চেয়ে রাজ্যবাসীর সমর্থন প্রার্থনা করেছেন।
অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই চিঠিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলেই দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে আবেগতাড়িত ভাষা ব্যবহার করে মানুষের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় বিজেপির কাছে আগামী বিধানসভা ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বারবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বঙ্গ সফর এবং সরাসরি জনসংযোগের কৌশল নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই চিঠিকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন একটাই প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা কি সত্যিই বাংলার ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে পারবে, নাকি তা কেবল নির্বাচনী কৌশল হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে? উত্তর মিলবে ভোটের ফল প্রকাশের পর।
