আজকের দিনেবাংলার আয়না

কিশোরীর শ্লীলতাহানি, অপমানে আত্মঘাতী নাবালিকা; গ্রেফতার সিভিক ভলান্টিয়ার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,উদয়নারায়ণপুর: উৎসবের আবহে চরম ট্র্যাজেডি হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে। মায়ের সঙ্গে কালীপুজো দেখতে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার এক কিশোরী। সেই অপমান সইতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আত্মহননের পথ বেছে নিল নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রী। এই ঘটনায় অভিযুক্ত এলাকারই এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইন ও আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা রুজু করা হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে খবর, গত রাতে ওই কিশোরী তার মায়ের সঙ্গে আমতা এলাকায় কালীপুজোর মেলা দেখতে গিয়েছিল। অভিযোগ, সেখানে তাঁদের পিছু নেয় পেঁড়ো থানার সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মরত এক যুবক। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সে কিশোরীর শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায় এবং স্থানীয়রা জড়ো হয়ে যান। অপমানিত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরে ওই কিশোরী। ফেরার পথে মায়ের কাছে সে নিজের ক্ষোভ ও অপমানের কথা জানিয়েছিল। বাড়িতে রাতের খাওয়াদাওয়া সেরে সে নিজের ঘরে শুতে যায়। পরিবারের সদস্যরা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে, এই অপমান কিশোরীকে কতটা গভীর ভাবে আঘাত করেছে। গভীর রাতে ঘর থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

​এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুক্রবার সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় উদয়নারায়ণপুর। একজন সিভিক ভলান্টিয়ারের হাতে কিশোরীর হেনস্থা এবং তার জেরে মৃত্যুর ঘটনায় ফুঁসে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা।

​কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে পেঁড়ো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পকসো আইন এবং আত্মহত্যার প্ররোচনা (ধারা ৩০৬ আইপিসি) অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ​পুলিশের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনায় ফের একবার সিভিক ভলান্টিয়ারদের আচরণ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *