বিশ্ব

মাদক সম্রাটের মৃত্যুতে জ্বলছে মেক্সিকো,নিহত ২৫ সেনা !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মাদক সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতির পতনেই যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে মেক্সিকো। কুখ্যাত মাদক সম্রাট নেমেসিও রুবেন ওসেগেরা সেরভান্তেস, যিনি বিশ্বজুড়ে ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত, তাঁর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ অস্থিরতা। পশ্চিম মেক্সিকোর একাধিক প্রদেশে মাদক পাচারকারীরা পথে নেমে হিংস্র প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। জ্বলছে বাস, পুড়ছে দোকানপাট, রাস্তায় নামানো হয়েছে ভারী অস্ত্রসজ্জিত বাহিনী।

রবিবার সেনা অভিযানে নিহত হন এল মেনচো। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আমেরিকা। এল মেনচোর মৃত্যুতে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এই মৃত্যুই যেন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজেরা সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের পশ্চিমাঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত। বিশেষ করে জালিস্কো,টামাউলিপাস, মিচোয়াকান,গুরেরো, এবং নিউভো লিওন এই পাঁচটি প্রদেশে কার্টেল সদস্যরা ন্যাশনাল গার্ডের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছে। গত দু’দিনে অন্তত ১১ হাজার সেনা ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে উত্তপ্ত এলাকায়। এখনও পর্যন্ত ২৫ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের মৃত্যুর খবর মিলেছে। পাশাপাশি নিহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন প্রতিবাদী।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাম জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিকদের প্রতি।
এদিকে অশান্ত পরিস্থিতির জেরে মেক্সিকোয় কর্মরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে একটি মার্কিন সংস্থা। মেক্সিকো থেকে আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া প্রতিটি বিমানে সংস্থার তরফে আগাম টিকিট কেটে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মেক্সিকোয় অবস্থানরত ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারতীয় দূতাবাস। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

মাদক সম্রাটের পতন কি তবে আরও বড় অশান্তির সূচনা? প্রশ্ন এখন সেটাই। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *