প্রয়াত মুকুল রায়
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- প্রয়াত বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায় (৭২) । দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি । সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন গতকাল ২২শে ফেব্রুয়ারি রবিবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার প্রয়াণে রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া ।
বঙ্গ রাজনীতির বর্ষীয়ান এই নেতার মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করেছে শাসক থেকে বিরোধী সব পক্ষই । তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে লেখেন ” মুকুল রায়ের মৃত্যু বাংলা রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগের অবসান । প্রবীণ এই নেতার বিপুল অভিজ্ঞতা ছিল ” । মুকুল রায় সম্পর্কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন সংগঠন তৈরি এবং বিস্তারের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন । তার অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় হয়ে থাকবে । মুকুল রায়ের পরিবার বন্ধু ও অনুগামীদের সমবেদনা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক । শোক জ্ঞাপন করেছেন বালুরঘাট লোকসভার বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড: সুকান্ত মজুমদার । তিনি লেখেন ” বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ভারত সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী মুকুল রায় মহাশয়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত । করুণাময় ঈশ্বরের কাছে তার বিদেহী আত্মার সৎগতি কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজনের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই” । বর্ষীয়ান এই নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন ” প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায়জির প্রয়ানে শোকাহত । তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে ” ।
মুকুল রায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়ির সামনে ভিড় জমতে শুরু করেন তার অনুগামীরা । জানা গিয়েছে হাসপাতাল থেকে দেহ নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে । প্রথমে দুপুর বারোটা নাগাদ বিধানসভায় আনা হবে তার মরদেহ । তারপর সেখানে তাকে অগ্রিম শ্রদ্ধা জানাবেন বিধানসভার অধ্যক্ষ ও সমস্ত দলের বিধায়করা । পরে কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে।
মুকুল রায় সক্রিয় রাজনীতির ময়দান থেকে দীর্ঘদিন অনেক দূরে ছিলেন । তৃণমূল তৈরির অন্যতম কারিগর ২০১৮ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেছিলেন । তার নেতৃত্বে পঞ্চায়েত নির্বাচনেই সেবার ভালো ফল করেছিল বিজেপি। তার সময়কালে ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে বাংলা থেকে ১৮ একটি লোকসভা আসন পায় পদ্মশিবির । ২০২১ এর নির্বাচনের তিনি বিজেপির হয়ে কৃষ্ণনগর উত্তর আসন থেকে ভোটের লড়ে বিধায়ক হয়েছিলেন। বিধানসভার ফলাফলে বিজেপির হারার পর তৃণমূলে ফিরে এসেছিলেন তিনি। তাকে বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানও করা হয়। যা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল তুমুল বিতর্ক । তার বিধায়ক পদ খারিজের মামলা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল । কলকাতা হাইকোর্ট তার বিধায়ক পথ খারিজের গায়ে দিলেও সেই নির্দেশে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট ।
কংগ্রেসের হাত ধরেই তার রাজনীতিতে উত্থান হয়েছিল। তৃণমূল তৈরির অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি । তার উদ্যোগে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের রেজিস্টার হয়েছিল । রাজ্যসভার সাংসদ থাকাকালীন তিনি কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক ও রেল মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলে ছিলেন অতীতে। বর্ষীয়ান এই নেতার প্রয়াণে অপরনীয় ক্ষতি হলো বঙ্গ রাজনীতিতে ।
