ট্রাম্পের ট্রাম্পকার্ড কি হরমুজ প্রণালী? ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় ঘনিয়ে আসছে কালো মেঘ!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে আবারও ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ইরানকে জব্দ করতে এবং নিজের শর্ত মানাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে রণকৌশল নিচ্ছেন, তাতে ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর পরোক্ষ চাপ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই প্রণালীটি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের জোগান কার্যত স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে। ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের একটি বিশাল অংশ এই পথেই আমদানি করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে ইরানকে কোণঠাসা করতে চায়। এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি বিশেষ দিক ভারতের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালী কোনোভাবে বাধাপ্রাপ্ত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের খুচরো বাজারে, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের তেল আমদানির সিংহভাগই আসে ইরাক, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে। এই দেশগুলো থেকে জাহাজ আসার প্রধান পথই হলো এই প্রণালী। ট্রাম্প চাইছেন ভারত যেন ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও কমিয়ে দেয়। কিন্তু চাবাহার বন্দরের মতো কৌশলগত প্রকল্পের কারণে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা ভারতের জন্য জরুরি। নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “প্রয়োজনে আমেরিকার নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা ট্যাঙ্কারগুলিকে এসকর্ট করবে। যাই হয়ে যাক না কেন, বিশ্বে অবাধ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।” শুধু তাই নয়, ইরানের হুঁশিয়ারির পর ওই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াত করতে নারাজ তেল সরবরাহকারী জাহাজ সংস্থাগুলি। তাদের উদ্দেশ্যেও ট্রাম্পের বার্তা, ‘স্টেট ডেভলপমেন্ট ফিনান্স কর্পোরেশন -কে নির্দেশ দিয়েছি যে তারা যেন হরমুজে যাতায়াতকারী সমস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্য, বিশেষ করে জ্বালানি বাণিজ্যের আর্থিক সুরক্ষার জন্য যেন গ্যারান্টি দেয়। সমস্ত শিপিং লাইনের জন্য এই সুবিধা থাকবে।’
ভারত সরকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া ও অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকে তেল কেনার প্রক্রিয়া ভারত চালিয়ে গেলেও, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ভারতের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে তাঁর কঠোর অবস্থান ভারতের বিদেশ মন্ত্রককে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার, ওয়াশিংটনের এই কৌশলী চালে ভারত নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখে।
