আজকের দিনেবিশ্ব

প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাইলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, ইন্টারন্যাশানাল ডেস্কঃ-  আমেরিকা ও ইজরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধের মাঝেই নাটকীয় পটপরিবর্তন। সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত পিছু হঠল ইরান। শনিবার যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে পা দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ওই দেশগুলো থেকে পাল্টা আক্রমণ না এলে তেহরানও আর হামলা চালাবে না।

​বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ‘সুর নরম’ করার পেছনে কাজ করছে বহুমুখী কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ। এর প্রধান কারণগুলো হলো,  সম্প্রতি সৌদি আরব সাফ জানিয়েছিল, ইরান হামলা বন্ধ না করলে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। রিয়াদের এই অনড় অবস্থানের পর পাকিস্তানও সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়ে সামরিক সাহায্যের আশ্বাস দেয়। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযানে ইরান ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত। হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর নতুন করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে শত্রুতা বজায় রাখা তেহরানের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ইরানের ‘অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ’ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিতে আক্রমণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

​এদিকে যুদ্ধের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি ইরানের কাছে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেছেন। তবে সুর নরম করলেও নতি স্বীকার করতে নারাজ পেজেশকিয়ান। ট্রাম্পের দাবিকে “অবাস্তব” বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন,​”ইরানের আত্মসমর্পণের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি ঠিকই, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আমরা আত্মসমর্পণ করছি।” পশ্চিম এশিয়ার প্রায় ১০টি প্রদেশে ইরানি হামলার পর এই ক্ষমা প্রার্থনা অঞ্চলটিতে সাময়িক স্বস্তি দিলেও, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সাথে যুদ্ধ কবে থামবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেল। সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশগুলোকে শান্ত রেখে ইরান এখন কেবল পশ্চিমা শক্তির মোকাবিলা করতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *