অনুব্রত-কাজলের গড়ে প্রার্থী ঘোষণা হুমায়ুনের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- বীরভূমের রাজনীতিতে কি তবে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত? মুর্শিদাবাদের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার বীরভূমের লাল মাটিতে নিজের শক্তি প্রদর্শনে নামলেন ভরতপুরের বিতর্কিত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বীরভূম জেলা তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট স্তম্ভ— একদিকে দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবং অন্যদিকে জেলা পরিষদের মেন্টর কাজল শেখ। এই দুই নেতার খাসতালুক বলে পরিচিত বীরভূমে সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করে কার্যত বোমা ফাটালেন হুমায়ুন।
তৃণমূল বিধায়ক হয়েও হুমায়ুন কবীর বরাবরই নিজের মেজাজে চলেন। এর আগে মুর্শিদাবাদে নিজের দলেরই নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু বীরভূমের মতো জেলায়, যেখানে অনুব্রত মণ্ডলের ফেরা এবং কাজল শেখের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে এমনিতেই দলের ভেতর চাপা উত্তেজনা রয়েছে, সেখানে হুমায়ুনের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিন বীরভূমের এক জনসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবীর সাফ জানিয়ে দেন, “মানুষ যাকে চাইবে, তাকেই প্রার্থী হতে হবে। কারও জমিদারি এখানে চলবে না।” এরপরই তিনি বীরভূমে তাঁর পছন্দের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে চমক দেন।
দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর অনুব্রত মণ্ডল বীরভূমে ফেরার পর থেকেই গুঞ্জন ছিল যে, কাজল শেখের সঙ্গে তাঁর ক্ষমতার লড়াই শুরু হতে পারে। দলীয় স্তরে সেই বিরোধ সামাল দেওয়ার চেষ্টা চললেও, হুমায়ুন কবীরের এই হঠাৎ উপস্থিতি সেই সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।
একজন বিধায়ক হয়ে দলের অনুমোদিত জেলা কমিটির বাইরে গিয়ে কীভাবে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বীরভূম জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া না মিললেও, তলে তলে যে অস্বস্তি বাড়ছে তা স্পষ্ট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার এক নেতা বলেন, “দলের শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে কেউ নন। বিষয়টি উচ্চ নেতৃত্বকে জানানো হবে।”
এদিন শুধু প্রার্থী ঘোষণাই নয়, হুমায়ুন রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “বীরভূমের মাটিতে যারা বঞ্চিত এবং অবহেলিত কর্মীরা আছেন, তাঁদের নিয়ে আমি লড়াই করব।” তাঁর এই মন্তব্য বীরভূম তৃণমূলের পুরোনো গোষ্ঠীকোন্দলকে ফের উসকে দিয়েছে।
এখন বীরভূমের রাজনৈতিক আকাশ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার। অনুব্রত মণ্ডল কি তাঁর হারানো জমি পুনরুদ্ধারে হুমায়ুনকে পাল্টা জবাব দেবেন? নাকি কাজল শেখ নিজের দুর্গ সামলাতে নতুন কোনো কৌশল নেবেন? সব মিলিয়ে বীরভূমের রাজনীতি এখন টালমাটাল।
