যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত আইনজীবী ফিরদৌস শামিম, গ্রেফতারিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: সহকর্মী এক জুনিয়র আইনজীবীকে যৌন হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিদ্ধ আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। এই মামলায় আপাতত স্বস্তি পেলেন তিনি। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ফিরদৌস শামিমকে গ্রেফতার করা যাবে না।
অভিযোগকারী মহিলা আইনজীবীর দাবি, তিনি ফিরদৌস শামিমের চেম্বারে জুনিয়র হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই চেম্বারেই তাঁকে শ্লীলতাহানি ও যৌন হেনস্থা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।ফিরদৌস শামিমের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ধারা ৭৪ ও ৭৫: শ্লীলতাহানি ও যৌন হেনস্থা।
ধারা ৭৯: নারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে অশ্লীল ভঙ্গি বা মন্তব্য।
ধারা ১২৬(২) ও ৩৫১(২): অন্যায়ভাবে আটকে রাখা ও অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন।
যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পরপরই আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ফিরদৌস শামিম। বুধবার শুনানির সময় তাঁর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন যে, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ফিরদৌসের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ বা গ্রেফতার না করার নির্দেশ দেন। তবে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে।
পেশায় আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি ফিরদৌস শামিম রাজনৈতিকভাবে সিপিএম-এর সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ তিনি প্রথম থেকেই অস্বীকার করে এসেছেন। বিষয়টিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন তাঁর অনুগামীরা, যদিও আইন আইনের পথেই চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশেই নির্ধারিত হবে অভিযুক্তের ভবিষ্যৎ।
