বিপদে মিলল না ‘বন্ধু’দের সাড়া, হরমুজ সংকটে কার্যত একঘরে ট্রাম্প!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,ওয়াশিংটন: প্রবাদ আছে, ‘বিপদেই বন্ধুর পরিচয়’। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই প্রবাদের তিক্ত স্বাদ পাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা কাটাতে ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর সাহায্য চেয়েও শেষমেশ খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে। আর এই প্রত্যাখ্যানের পরই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ট্রাম্প।
ইজরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের ওপর মার্কিন হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন অগ্নিগর্ভ। পালটা চালে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এর ফলে: বিশ্বজুড়ে হু হু করে বাড়ছে তেল ও গ্যাসের দাম। আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশে তীব্র হচ্ছে জ্বালানি সংকট। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি ও পেট্রোডলারের দাপট।
সংকট সামাল দিতে ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেনের মতো দেশগুলোকে তাদের রণতরী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে কোনো দেশই আমেরিকার এই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এমনকি ভারত সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনাই হয়নি। উলটো ভারত কূটনীতির পথে হেঁটে ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো পার করে নেওয়ার পথে হাঁটছে।
মিত্রদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন:“আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। আমাদের বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে। কাউকে আমাদের প্রয়োজন নেই।” পরে অবশ্য নিজের অবস্থান কিছুটা সামাল দিতে তিনি দাবি করেন, তিনি আসলে মিত্র দেশগুলোর মানসিকতা ‘বাজিয়ে’ দেখছিলেন। তার কথায়, “আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম ওরা কী করে। আমি অনেক আগেই বলেছিলাম, আমাদের প্রয়োজনে ওদের সবাইকে পাশে পাওয়া যাবে না।” সেই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, এই দেশগুলো বছরের পর বছর মার্কিন অনুদান পেয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ইস্যুতে ট্রাম্পের এই ডাক উপেক্ষা করা বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার একক আধিপত্যের ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন। একদিকে ইরান যখন অনড় অবস্থানে, তখন আমেরিকার পুরনো মিত্ররা সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চাইছে না। ফলে একদিকে জ্বালানি সংকট আর অন্যদিকে মিত্রদের শীতলতা—সব মিলিয়ে ট্রাম্প এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেশ খানিকটা নিঃসঙ্গ।
