আজকের দিনেভারত

৪৮ ঘণ্টায় ফ্রি ক্যানসেল, বাধ্যতামূলক রিফান্ড

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- যাত্রীদের স্বার্থে বড় পদক্ষেপ করল দেশের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)। বিমানের টিকিট রিফান্ড ও সংশোধন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বদল এনে এবার যাত্রীদের জন্য বেশ কিছু স্বস্তিদায়ক নিয়ম চালু করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, টিকিট কাটার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা বাতিল করলে বিমান সংস্থা কোনও অতিরিক্ত চার্জ নিতে পারবে না। এতদিন বাতিলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স বিপুল পরিমাণ ক্যানসেলেশন ফি কেটে নিত, ফলে যাত্রীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। ডিজিসিএ-র এই সিদ্ধান্তে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু বাতিল নয়, নাম সংশোধনের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে বড় ছাড়। টিকিট বুক করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রী যদি নাম সংশোধনের আবেদন করেন, তবে সেই ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না। অনেক সময় বানানভুল বা নথিপত্র অনুযায়ী নামের সামান্য অমিল থাকলে যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হত এবং সংশোধনের জন্য মোটা অঙ্কের ফি দিতে হত। নতুন নিয়মে সেই জটিলতা কমবে।
রিফান্ড সংক্রান্ত সময়সীমাও স্পষ্ট করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিমান সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইট, ট্রাভেল এজেন্ট বা অনলাইন পোর্টাল যেখান থেকেই টিকিট কাটা হোক না কেন, বাতিল টিকিটের অর্থ যাত্রীকে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। অর্থাৎ রিফান্ড আটকে রাখা বা অযথা দেরি করার সুযোগ আর থাকছে না। এতে স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনই যাত্রীদের আস্থাও ফিরবে বলে মনে করছে বিমান পরিবহণ মহল।
তবে একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। যদি অন্তর্দেশীয় বিমানের ক্ষেত্রে যাত্রার সাত দিনের মধ্যে এবং আন্তর্জাতিক বিমানের ক্ষেত্রে যাত্রার ১৫ দিনের মধ্যে টিকিট কাটা হয়, তবে এই বিশেষ রিফান্ড সুবিধা পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ একেবারে শেষ মুহূর্তে টিকিট কেটে তা বাতিল করলে আগের নিয়মই বহাল থাকতে পারে।
প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো-র পরিষেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বহু যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হন। সেই সময় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যাত্রীদের রিফান্ড দেওয়ার নির্দেশ দেয় ডিজিসিএ। পাশাপাশি, টিকিট বাতিলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ আদায়ের অভিযোগও একাধিকবার জমা পড়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে। যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা, বিমান সংস্থাগুলির উপর নজরদারি জোরদার করা এবং পরিষেবায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই নয়া নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

সামগ্রিকভাবে, এই সিদ্ধান্ত দেশের বিমানযাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে। যাত্রী অধিকার রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সক্রিয় ভূমিকা ভবিষ্যতে বিমান পরিষেবাকে আরও জবাবদিহিমূলক ও যাত্রীবান্ধব করে তুলবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *