আজকের দিনেভারত

দেশজুড়ে এলপিজির আকাল উদ্বেগ বাড়ছে তিনটি রাজ্য নিয়ে

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি :- পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ সরাসরি পড়েছে ভারতের হেসেল গুলিতে । আমাদের দেশ ভারতকে ১০০% এলপিজি গ্যাস আমদানি করতে হয় । যে পথে আমাদের দেশে গ্যাস আসে সেই হরমুজ প্রণালী এখনও বন্ধ রয়েছে । যে কারণে প্রতিমুহূর্তে বাড়ছে উদ্বেগ । জ্বালানি নিয়ে গোটা দেশের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আর সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছে দেশের তিনটি রাজ্য , কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র ও পশ্চিমবঙ্গ ।

সূত্রের খবর কর্ণাটক রাজ্যের হোটেল এবং ব্যবসা ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে । রাজধানী বেঙ্গালুরু হোটেল অনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে এইয়া পরিস্থিতি হোটেলগুলি চালানো দুস্কর হয়ে যাচ্ছে । এলপিজি গ্যাসের যে সংকট বর্তমানে দেখা দিয়েছে কিছুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নত না হলে হোটেলগুলি বন্ধও রাখতে হতে পারে। হোটেল অনার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি পিসি রাও বলেছেন “বেঙ্গালুরু শহরের ১০ শতাংশ হোটেল এবং রেস্তোরাঁ এলপিজি গ্যাস পেয়েছে “। এই কথা থেকেই স্পষ্ট পর্যাপ্ত এলপিজির চাহিদার সিকি ভাগ কোন রকমে পূরণ হচ্ছে।
কর্নাটকের পাশাপাশি মহারাষ্ট্রে এলপিজি গ্যাসের অভাব ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে। গ্যাস ডিলাররা জানাচ্ছেন যোগানের ঘাটতি হওয়ার কারণে বুকিং করা গ্যাস ও সঠিক সময়ে দেওয়া যাচ্ছে না । হোটেল এবং রেস্তোরাঁতে গ্যাস দেওয়া প্রায় একেবারে বন্ধ । পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে ব্ল্যাক মার্কেট থেকে গৃহস্থের ব্যবহৃত রান্নার গ্যাস কিনতে হতে পারে রেস্তোরাঁ গুলিতে। হোটেল ,রেস্তোরা, গৃহস্থালী ছাড়াও প্রভাব পড়েছে মহারাষ্ট্রের শ্মশান গুলিতে । রাজ্যে সব থেকে বড় শ্মশান “বৈকুণ্ঠ ধাম” গ্যাস নির্ভর দহ পরিষেবা ইতিমধ্যেই বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপাতত বৈদ্যুতিক চুল্লিতেই দাহ করার প্রক্রিয়া চালু রেখেছে শ্মশান কর্তৃপক্ষ।

আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও একাধিক জায়গায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষত কলকাতার বড় রেস্তোরাগুলিতে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না । কলকাতার একটি নামেই বিরিয়ানি প্রস্তুতকারক রেস্তোরাঁর শীর্ষকর্তা বলেন ” এখন সিলিন্ডার পেয়ে যাচ্ছি। তবে যে খবর পাচ্ছি জোগান বন্ধ হয়ে যেতে পারে । কি করবো বুঝতে পারছিনা । কোথা থেকে ব্যবস্থা করব ? কয়লা তো ব্যবহার করি না । শেষ পর্যন্ত কি কয়লায় ফিরে যেতে হবে? বুঝতে পারছি না । ব্যবসা করতে গেলে তো রান্না করতেই হবে কিন্তু রান্না কিভাবে করব ? বিরিয়ানি নয় কাঠে হতে পারে। বাকি রান্না কাঠে করা যথেষ্ট মুশকিল” ।

রাজ্যের একাধিক রেস্তরাই এলপিজি গ্যাসের যোগান সমস্যায় ব্যবসায় কাটছাঁট করছে । খবর পাওয়া যাচ্ছে, অনেকে বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারে ব্যবহার করছেন। কেন্দ্র সরকার এই পরিস্থিতিতে সর্বপ্রথম গৃহস্থের ঘরে যাতে গ্যাসের জোগান অব্যাহত থাকে তার ওপর জোর দিচ্ছে । বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ ঠিক করতে বিশেষ কমিটি তৈরি করা হয়েছে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *