সুস্থ থাকুন

পেটের অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক নয়, সতর্কতাই সমাধান !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- এখন ঋতুবদলের সময়। শীতের শেষে বসন্তের শুরুতে হালকা জ্বর, সর্দি–কাশি বা পেটখারাপের খবর প্রায়ই আসে। এটা নতুন কিছু নয়—প্রতি বছরই এমনটা দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যে বিষয়টি বেশি চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে, তা হলো পেটের রোগের প্রকোপ। চারপাশে অনেকেই পেটের সমস্যার কথা বলছেন কেউ ডায়েরিয়ায় ভুগছেন, কারও পেটে ব্যথা, বমি বা খাওয়ায় অরুচি। বিশেষ করে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, যা অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

এই পেটের অসুখ কি কেবল খাওয়াদাওয়ার অনিয়মের ফল? তা পুরোপুরি নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দেশের নানা অঞ্চলে সমীক্ষা চালিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ । সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঋতুবদলের সময় একগুচ্ছ ভাইরাস সক্রিয় হয়ে ওঠে এদের মধ্যে রয়েছে নোরোভাইরাস ও রোটাভাইরাস, যেগুলোর কারণে ‘ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস’ বা স্টমাক ফ্লু হয়। এ রোগে পেটখারাপ, বমি, পেটব্যথা হতে পারে এবং অনেক সময় শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দেয়। ছোট শিশু বা অপুষ্টিতে ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আরেকটি ভাইরাস হলো অ্যাস্ট্রোভাইরাস, যা শিশু ও বয়স্কদের পেটের অসুখ ঘটাতে পারে।অ্যাডিনোভাইরাসও শিশুদের জ্বর ও পেটের সমস্যার জন্য দায়ী। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এই ভাইরাসগুলোর রূপ পরিবর্তনের ক্ষমতা থাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে।

চিকিৎসকদের বক্তব্য, পেটের অধিকাংশ সমস্যাই ভাইরাসজনিত। তাই অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলার প্রবণতা বিপজ্জনক। অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না বরং অযথা ওষুধ খেলে পরবর্তীতে ডায়েরিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ওষুধ-অপ্রতিক্রিয়াজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণ স্টমাক ফ্লু তিন-চার দিনের মধ্যেই সেরে যায়। এই সময় ঘরে তৈরি খাবার, পর্যাপ্ত জল এবং বিশ্রাম অনেক সময়ই যথেষ্ট। যদি সমস্যা না কমে, তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ নেওয়া উচিত।

মেডিকেল কলেজ,কলকাতার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋতুবদলের সময়ে জীবাণু দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে, তাই জ্বর ও পেটের অসুখ বাড়ে। ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুখ থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি যত্ন প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই প্রতিরোধের মূল উপায়। কিনে আনা সবজি, ফল বা মাছ-মাংস ভালো করে ধুয়ে রান্না করতে হবে। শাকপাতা নুন দেওয়া গরম জলে ধুয়ে নেওয়া ভালো। রাস্তার পানীয়, লস্যি, লেবুর শরবত বা আখের রস থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে তাই এগুলো খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। রাস্তার ধারের খাবার বা অস্বাস্থ্যকর পানীয় থেকে ভাইরাস সহজে ছড়ায়, কারণ অনেক সময় সেগুলো পরিষ্কার জলে তৈরি হয় না।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, পেটখারাপ হলে প্রথমেই অ্যান্টিবায়োটিক নয় লক্ষণ দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। শরীরে জলের অভাব হতে দেওয়া যাবে না। গুরুতর ডায়েরিয়া, বমি বা জ্বর না কমলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

ঋতুবদলের এই সময়টায় সচেতন থাকলেই পেটের রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, পরিষ্কার খাবার ও বিশুদ্ধ জল এই ছোট ছোট অভ্যাসই বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *