২৬-এর ভোটে বীরভূমে ১১-০ করার হুঙ্কার অনুব্রতর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বীরভূম: আড়াই বছরের জেল জীবন কাটিয়ে বীরভূমে ফিরতেই স্বমহিমায় ধরা দিলেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। লোকসভা এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনের সাফল্যের ধারা বজায় রেখে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ১১টি আসনেই ঘাসফুল ফোটানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কারণেই তাঁকে এবং তাঁর মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জেল খাটতে হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারের শুরুতেই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “বিজেপি গোটা বীরভূম জুড়ে জাল বিছিয়েছিল। আমাকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমি দলকে ভালোবাসি, তাই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় আমাকে আর আমার মেয়েকে জেলে পাঠানো হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তাঁকে বন্দি রেখে সংগঠন ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হলেও তৃণমূলের ভিত নড়েনি, যার প্রমাণ মিলেছে গত লোকসভা ও পঞ্চায়েত ভোটের ফলে।
বাম-কংগ্রেসকে কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ করার দাবি জানিয়ে ‘কেষ্ট’ বচনে অনুব্রত বলেন, “চ্যালেঞ্জ করে সিপিএমকে জেলা থেকে তাড়িয়েছি।” “কংগ্রেসের নাম জেলা থেকে মুছে দিয়েছি।” “আগামী দিনে বিজেপিরও একই হাল হতে চলেছে। মানুষ কি আবার ৩৪ বছরের সেই অন্ধকার ফিরে পেতে চাইবে?”
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ১০টিতে জিতেছিল তৃণমূল। অনুব্রত স্বীকার করে নেন যে, গতবার সামান্য ভুলে দুবরাজপুর আসনটি হাতছাড়া হয়েছিল। তবে এবার সেই খামতি মিটিয়ে ১১টি আসনেই জয়ের ব্যাপারে তিনি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জল্পনা উড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের এলাকা হাসন-সহ প্রতিটি বিধানসভাতেই তিনি নিজে প্রচার করবেন। “আমি নিজে সবকটি বিধানসভায় জনসভায় থাকব। মানুষ বঞ্চনার প্রতিবাদে জোড়াফুলের প্রতীকেই যোগ্য জবাব দেবেন।” — অনুব্রত মণ্ডল
