Anadapur-Kolkata : আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে মৃত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ ঘোষণা কেন্দ্রের….
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী দফতরের তরফে টুইট করে জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক। যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (পিএমএনআরএফ)থেকে এই দুর্ঘটনায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে এককালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, দুর্ঘটনায় আহত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে উদ্ধার ও চিকিৎসার কাজ পুরোদমে চলছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে কেন্দ্রীয় সরকারও। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে ২১টি দেহাংশ। তবে এগুলি কতজনের দেহাবশেষ, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। এই ঘটনার তদন্তে পুলিশি পদক্ষেপও জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াও মোমোর গুদামের ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। এর আগে দ্বিতীয় গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বারুইপুর পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, আনন্দপুর থানায় মোট ২৭ জন নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরি নথিভুক্ত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলির পরিচয় নিশ্চিত করতে সেগুলি কেন্দ্রীয় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলেই প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এবং নিহতদের পরিচয় স্পষ্ট হবে। দ্রুত তদন্তের স্বার্থে বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার নিজে সিএফএসএল-এ গিয়ে পরীক্ষার অগ্রগতি তদারক করেছেন।
এদিকে শুক্রবারও থামেনি উদ্ধারকাজ। ডেকরেটার্সের গুদামের ভেঙে পড়া টিনের শেড সরিয়ে ধ্বংসস্তূপ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে আরও কোনও দেহাংশ পাওয়া যায় কি না, তা নিশ্চিত করা যায়। ঘটনাস্থলে এখনও চলছে তল্লাশি অভিযান।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। পুড়ে যাওয়া আনন্দপুরের দুটি গুদাম ঘুরে বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন তিনি। পরিদর্শন শেষে রাজ্যপাল বলেন, “আমি দোষারোপ করতে আসিনি, তথ্য জানতে এসেছি। তবে প্রশাসনের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল। ঘটনার পর দায় এড়ানোর কোনও সুযোগ নেই।” একই দিনে সকালে ফের ঘটনাস্থলে যান ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। তাঁরা নমুনা সংগ্রহ করে তদন্তে সহায়তা করছেন।
