সংসদে মোদির কড়া বার্তা: ‘ইরান বন্ধু হতে পারে, কিন্তু হরমুজ অবরোধ মেনে নেবে না ভারত’
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তাপ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতের সংসদ চত্বরে। সোমবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একদিকে যেমন ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন, তেমনই আমেরিকার ‘যুদ্ধংদেহী’ মনোভাব নিয়েও মুখ খুললেন। প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরুদ্ধ করে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেবে না ভারত।
টানা চার সপ্তাহে পা রাখা ইরান যুদ্ধে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বিশ্বের ‘তৈল ধমনী’ বলে পরিচিত হরমুজ প্রণালী। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই পথে কোনো জাহাজ চলাচল করলেই তা ধ্বংস করা হবে। যদিও ভারতসহ হাতেগোনা কয়েকটি দেশকে ‘ছাড়’ দেওয়ার কথা বলেছে তেহরান, কিন্তু তাতে আশ্বস্ত নয় নয়াদিল্লি। সোমবার সংসদে মোদি বলেন, ”হরমুজ অবরুদ্ধ করে রাখা কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নয়। ভারত এটা সমর্থন করে না। অসামরিক অবকাঠামো বা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী।” উল্লেখ্য, এই অবরোধের ফলে ভারতে ইতিমধ্যেই গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান যুদ্ধ আমেরিকা প্রায় জিতেই গিয়েছে এবং এই মুহূর্তে কোনো যুদ্ধবিরতিতে তিনি আগ্রহী নন। ট্রাম্পের এই আগ্রাসী মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নাম না করে এদিন মোদি বলেন, “যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। ভারত সর্বদা মানবকল্যাণ ও শান্তির পক্ষে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, একমাত্র কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান সম্ভব।
বর্তমানে যুদ্ধের যে ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে, তাতে দেখা যাচ্ছে দুই পক্ষই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত।
আমেরিকার ক্ষতি: গত ২০ দিনে ৩টি F-35 যুদ্ধবিমান এবং ৬টি KC Tanker ধ্বংস হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন ঘাঁটি এখন ক্ষতবিক্ষত।
ইরানের অবস্থা: ইরান ছারখার হলেও তারা ইজরায়েলের হাইফা তেল শোধনাগারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্রে প্রত্যাঘাত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে কৌশলগত মিত্র আমেরিকা আর অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরান—এই দুই শক্তির সংঘাতের মাঝে দাঁড়িয়ে মোদির এই মন্তব্য অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত যে নিজের স্বার্থ ও বিশ্বশান্তির প্রশ্নে আপস করবে না, এদিন সংসদে দাঁড়িয়ে সেই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
