দেশে প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, দিল্লি :- দেশে প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতির ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ কোর্ট হরিশ রানার নিষ্কৃতি মৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে । পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বছর ৩২ এর হরিশ ২০১৩ সালের হোস্টেলের পাঁচ তলা থেকে পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছিলেন । তারপর থেকে তিনি শয্যাশায়ী । বিগত ২০২৪ সালে এই মামলাকে খুব কঠিন সমস্যা বলে উল্লেখ করেছিল শীর্ষ আদালত । দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ার পর অবশেষে শীর্ষ আদালত হরিশের নিষ্কৃতি মৃত্যুতে সায় দিল। তার বাবা-মায়ের অনুরোধের কারণেই তার জীবনদায়ী ব্যবস্থাকে খুলে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত ।
প্রসঙ্গত গত ১৩ বছর ধরে নড়াচাড়া করতে পারেন না দিল্লির যুবক হরিশ । ২০১৩ তে হোস্টেলের পাঁচতলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে শয্যাশায়ী হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কোয়াডিপ্লোজিয়া রোগে আক্রান্ত ৩২ বছরের এই যুবক । বাইরে জগত বা নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে তার কোন চেতনা নেই। তার মধ্যে শুধু আছে প্রাণটুকু । তাকে কি পরক্ষণে মৃত্যু প্রদান করা যায় ? এই বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য নয়দা জেলা হাসপাতালে মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এ বছরের জানুয়ারিতে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের শুনানি হয়। মেডিকেল বোর্ড এবং কেন্দ্রের সঙ্গে বহু আলোচনার পর রায় স্থগিত রাখে শীর্ষ আদালত । অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার ১০ই মার্চ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে এই মামলা শুনানি হয়। হরিসের নিষ্কৃতি মৃত্যু রায় দিতে গিয়ে বিচারপতির বেঞ্চ উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের “হ্যামলেট ” এর প্রসিদ্ধ লাইন ” টু বি ওর নট টু বি” উল্লেখ করেন । আদালত জানায় ভারতে প্রত্যক্ষ মৃত্যু সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ । কিন্তু দুটি কারণের উপর ভিত্তি করে এই ক্ষেত্রে নিষ্কৃতি মৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে । প্রথমত হরিশের চিকিৎসা ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতি , এবং দ্বিতীয়ত রোগীর পক্ষে কোনটা ভালো এই দিকগুলি বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।
প্রসঙ্গত ডাক্তারি পদ্ধতিতে হরিশের নিষ্কৃতি মৃত্যু চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তার বাবা মা । সেই ২০১৩ সাল থেকে তাদের সন্তান শয্যাশায়ী । তার ছেড়ে ওঠার কোন সম্ভাবনা নেই । দিনের পর দিন অসুস্থতা ক্রমশ বাড়ছে । ছেলের কষ্ট লাঘব করতেই আদালতে এই নিষ্কৃতিমৃত্যুর আবেদন। এবং তাদের আবেদন খতিয়ে দেখে শীর্ষ আদালত নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতিতে সায় দিল ।
