রাজপথ ছেড়ে গ্রামের অলিগলিতে বঙ্গ বিজেপি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি বেজে গিয়েছে। হাতে সময় মাত্র দেড় মাস। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে প্রচারের কৌশল আমূল বদলে ফেলল বিজেপি। রাজপথের চড়া দাগের রাজনৈতিক মিছিলের বদলে এবার বঙ্গ বিজেপি নেতাদের লক্ষ্য গ্রামের অলিগলি আর সাধারণ মানুষের ঘরের দাওয়াই। দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ— কেবল লিফলেট বিলি নয়, গ্রামের বাড়িতে ঢুকে জল খাওয়ার অছিলায় গল্প জমাতে হবে ভোটারদের সঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের মতে, জনসংযোগের এই কায়দা অনেকটা পুরনো আমলের সিপিএমের ‘ক্যাডর ভিত্তিক’ জনসংযোগের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
দিল্লির পাঠানো গাইডলাইনে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র বড় সভায় ভিড় বাড়িয়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব নয়। তাই নেতাদের জন্য একগুচ্ছ ‘হোমটাস্ক’ বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বুথ ভিত্তিক বৈঠক: নেতাদের প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি করে বুথ এলাকায় যেতে হবে।
ব্যক্তিগত জনসংযোগ: গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনতে হবে এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা কীভাবে মিলবে, তা বোঝাতে হবে।
ধর্মীয় ভাবাবেগ: জনসংযোগের অঙ্গ হিসেবে স্থানীয় পরিচিত মন্দিরে পুজো দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে নেতাদের।
বিজেপির এবারের অন্যতম চমক হলো ‘জনতার ইস্তেহার’। দলীয় সূত্রে খবর, এবার কেবল রাজ্যভিত্তিক নয়, বরং স্থানীয় সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে ইস্তেহার বা ‘সংকল্পপত্র’ তৈরি করা হচ্ছে। এর জন্য বুথে বুথে বাক্স ও ফর্ম পাঠানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ তাঁদের এলাকার সমস্যার কথা সরাসরি জানাতে পারেন। স্থানীয় চাহিদা পূরণকেই এবার ভোটের হাতিয়ার করতে চাইছে পদ্ম শিবির।
রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৯টি জায়গা থেকে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র রথ বের করেছে বিজেপি। লক্ষ্য ২৫০টি বিধানসভা ছুঁয়ে ৫০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা। দলের দাবি, এই যাত্রার সমান্তরালে নিচুতলায় গোপনে প্রায় দেড় লক্ষ ছোট ছোট বৈঠক বা সভা ইতিবাচকভাবে সেরে ফেলেছে তারা। ”পরীক্ষা যখন দোরগোড়ায়, তখন পড়াশোনা করে কী লাভ? গত তিন বছর কেন সংগঠন গোছানো হলো না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।”
এত পরিকল্পনার মাঝেও অস্বস্তি কাটছে না গেরুয়া শিবিরের। দলের একটা বড় অংশ মনে করছে, বঙ্গ বিজেপির নিচুতলার সংগঠন এখনও যথেষ্ট দুর্বল। ভোটের ঠিক দেড় মাস আগে এই ‘ডোর টু ডোর’ ক্যাম্পেইন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যে কাজ গত তিন বছরে করা উচিত ছিল, তা পরীক্ষার আগে ‘লাস্ট মিনিট সাজেশন’-এর মতো কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে খোদ পদ্ম শিবিরের অন্দরেই তৈরি হয়েছে সংশয়। এখন দেখার, দিল্লির এই কৌশলী ‘হোমটাস্ক’ শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে লক্ষ্মীলাভ ঘটাতে পারে কি না।
