আজকের দিনেতিলোত্তমা

বহুতল ফ্ল্যাটের বন্ধ ঘরে মিলল মা-ছেলের দগ্ধ দেহ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ-  ভরদুপুরে খাস কলকাতার নাগেরবাজারে চাঞ্চল্য। সাতগাছি এলাকার একটি বহুতল আবাসন থেকে মা ও ছেলের অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। মৃতদের নাম ছবি সিকদার (৭০) এবং অভিষেক সিকদার (৪০)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও রহস্য দানা বেঁধেছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুর একটা নাগাদ সাতগাছির ওই পাঁচতলা আবাসনের চারতলার একটি ফ্ল্যাটের জানলা দিয়ে গলগল করে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন প্রতিবেশীরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তাঁরা ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলেও ভিতর থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। খবর দেওয়া হয় নাগেরবাজার থানা ও দমকল বাহিনীকে। ​ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে দমকল ও পুলিশ কর্মীরা ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। সেখান থেকেই অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। দমকলের বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় ফ্ল্যাটের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

​প্রতিবেশীদের দাবি, বছর চল্লিশের অভিষেক সিকদার যথেষ্ট মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং এলাকায় তাঁর যথেষ্ট সুনাম ছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা তাঁর জীবনে অন্ধকার নামিয়ে আনে। জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়, যার পর থেকেই তিনি চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। মাঝেমধ্যেই তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলতেন এবং তাঁর মানসিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়েছিল বলেও প্রাথমিক অনুমান প্রতিবেশীদের। বৃদ্ধা মা ছবি সিকদারের সঙ্গেই ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি।

​আগুন কীভাবে লাগল, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ ও দমকল। ঘটনার নেপথ্যে উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন: শর্ট সার্কিট থেকে কি অনিচ্ছাকৃতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড?​মানসিক অবসাদ থেকে কি ছেলে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন? ছেলেকে বাঁচাতে গিয়েই কি বৃদ্ধা মায়ের এই মর্মান্তিক পরিণতি?
​পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট এবং প্রাথমিক তদন্তের পরেই পরিষ্কার হবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে।”
​বর্তমানে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে নাগেরবাজার থানার পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *