প্রবাসী হেল্প ডেস্ক চালু করলেন রাজ্যপাল
কিউ ইন্ডীয়ায় বাংলাঃ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে প্রবাসী বাঙালিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ড. সি.ভি. আনন্দ বোস। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিদেশে আটকে পড়া বা সমস্যায় পড়া পশ্চিমবঙ্গবাসীদের সহায়তা দিতে রাজভবনে তড়িঘড়ি চালু করা হলো ‘প্রবাসী হেলথ ও সেফটি ডেস্ক’।
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে সেখানে কর্মরত বা বসবাসকারী কয়েক হাজার বাঙালির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁদের পরিবার। এই কঠিন সময়ে প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের যেকোনো স্বাস্থ্যগত বা জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি রাজভবনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দিয়েছেন রাজ্যপাল।
রাজভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ সেলটি মূলত প্রবাসীদের জন্য একটি ‘ওয়ান-স্টপ সলিউশন’ হিসেবে কাজ করবে। যুদ্ধকবলিত এলাকায় কেউ অসুস্থ হলে বা ওষুধের প্রয়োজন হলে দ্রুত পরামর্শ প্রদান।
আটকে পড়া বাঙালিদের তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করা যাতে তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরানো যায়। প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যরা যাতে স্বজনদের বর্তমান অবস্থা জানতে পারেন, তার জন্য রাজভবন থেকে নির্দিষ্ট যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। যুদ্ধের আতঙ্কে থাকা প্রবাসীদের কাউন্সিলিং বা মানসিকভাবে আশ্বস্ত করার জন্য রাজভবনের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে।
”বিশ্বের যেখানেই বাংলার মানুষ বিপদে পড়ুক না কেন, রাজভবনের দরজা তাঁদের জন্য সর্বদা খোলা। ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতির ওপর আমরা নজর রাখছি এবং প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” — ড. সি.ভি. আনন্দ বোস, রাজ্যপাল।
রাজভবনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসীরা বা তাঁদের পরিবার যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি রাজভবনের কন্ট্রোল রুমে ইমেল বা হেল্পলাইন নম্বরের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবেন। যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতির জন্য এই ডেস্কটি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নম্বর- ০৩৩-২২০০১৬৪১। ই-মেল- peaceroomrajbhavan@gmail.com, osd2wb.governor@gmail.com, generalcellgs@gmail.com, specialcellgs@gmail.com। এই সেলের দায়িত্বে আছেন অফিসার স্পেশাল ডিউটি সন্দীপ সিং রাজপুত। তাঁর ফোন নম্বর- ৯৭১৭৭৭৩১৩৪।
পশ্চিম এশিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও রাজ্যপাল নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখছেন বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপের ফলে যুদ্ধকালীন আতঙ্কের মধ্যে থাকা প্রবাসী বাঙালি পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।
