আজকের দিনেতিলোত্তমা

“তৃণমূলের অভিযোগ খারিজ মনোজ আগরওয়ালের, ব্যক্তিগত আক্রমণের পাল্টা জবাব সিইও দপ্তরের”

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ-   রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও শাসকদলের সংঘাত এবার চরম আকার নিল। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে তৃণমূলের তোলা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নস্যাৎ করে দিল সিইও দপ্তর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক কড়া বিবৃতিতে কমিশন জানিয়েছে, এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ এবং আধিকারিকদের ‘বদনাম’ করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে। রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সরব হন সিইও মনোজ আগরওয়ালের পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, সিইও-র স্ত্রী ও শ্বশুরের নামে বিপুল সম্পত্তি রয়েছে, যার উৎস নিয়ে প্রশ্ন আছে। মঙ্গলবার দোলের দুপুরেও তৃণমূলের তরুণ মুখপাত্ররা সমাজমাধ্যমে এই আক্রমণ জারি রাখেন। তাঁদের দাবি ছিল, অধস্তন কর্মীদের ‘লক্ষ্মণরেখা’ স্মরণ করানোর আগে সিইও নিজে তাঁর পরিবারের সম্পত্তির হিসাব দিন।

তৃণমূলের এই আক্রমণের মুখে চুপ থাকেনি সিইও দপ্তর। মঙ্গলবার বিকেলে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, ​তৃণমূলের তোলা সমস্ত অভিযোগ কাল্পনিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ​নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের মনোবল ভেঙে দিতে এবং তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। ​বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “বদনাম করে ফাঁসিতে ঝোলাতে চাইছে, তবে শেষ পর্যন্ত আইনের শাসন এবং সত্যই জয়ী হবে।”

গত কয়েক মাস ধরেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ নিয়ে কমিশনের ওপর ক্ষুব্ধ তৃণমূল। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ এবং ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ১৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘ছোটখাটো ব্যাপার’ বলে সিইও উড়িয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ তুলেছিল শাসকদল। সেই বিতর্কের রেশ ধরেই এবার সরাসরি সিইও-র ব্যক্তিগত সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তাকে এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ নজিরবিহীন। একদিকে তৃণমূল যখন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, অন্যদিকে সিইও দপ্তরও আইনি পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব মিলিয়ে দোল উৎসবের আবহেও বাংলার রাজনীতিতে ‘সম্পত্তি বিতর্ক’ ও ‘কমিশন বনাম তৃণমূল’ লড়াই নতুন মাত্রা পেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *