আজকের দিনেবাংলার আয়না

কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘দোল ও হোলি উৎসবের’ মিলন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবরূপে নির্মিত কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের  উদ্বোধন করেন। ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই অত্যাধুনিক সড়কের উদ্বোধন করে তিনি রাজ্যবাসীর জন্য এক বড়সড় ‘দোল উপহার’ ঘোষণা করেন।

​নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী যা যা বললেন:

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই নতুন এক্সপ্রেসওয়ে চালুর ফলে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে কল্যাণী পৌঁছাতে এখন থেকে মাত্র ৪০-৪৫ মিনিট সময় লাগবে। আগে এই পথ অতিক্রম করতে প্রায় ২ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগত।

এই সড়কটি সোদপুর, ব্যারাকপুর, নৈহাটি, মধ্যমগ্রাম এবং বারাসতের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার যানজট এড়িয়ে দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা করে দেবে। এটি উত্তরবঙ্গের দিকে যাওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করবে।

​কর্মসংস্থান ও মানবিক উদ্যোগ: উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী SIR প্রকল্পে জমি বা অন্যান্য কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা মৃত ৩৬ জন ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হাতে রাজ্য সরকারের নিয়োগপত্র তুলে দেন। তাঁদের সিভিক ভলান্টিয়ার পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে।

​আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই উন্নত পরিকাঠামো উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া ও হুগলি জেলার মানুষের যাতায়াতে আমূল পরিবর্তন আনবে এবং ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক শ্রী বৃদ্ধি করবে।

পাশাপাশি তিনি জানান, রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় জৈন সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিশেষ ঘোষণা করেন।

​তিনি জানান যে, নিউটাউন এলাকায় জৈনদের একটি নতুন মন্দির এবং ধর্মীয় স্থান নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকার জমি বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জৈন সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিউটাউন (রাজারহাট) এলাকায় ৪ একর জমি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

​ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্র: এই জমিতে একটি বিশালাকার জৈন মন্দির এবং সেই সঙ্গে একটি সামাজিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যা ওই সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনস্থল হিসেবে কাজ করবে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলা সব ধর্মের এবং সব জাতির মিলনক্ষেত্র। জৈন সম্প্রদায় বাংলার অর্থনীতি ও সমাজ গঠনে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এই জমি বরাদ্দ তারই একটি স্বীকৃতি। তিনি আরও জানান যে, এই প্রকল্প রূপায়ণে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

​মূলত, দোল ও হোলি উৎসবের এই মঞ্চকে তিনি সকল ধর্মের মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা এবং সৌহার্দ্যের বার্তা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *