তিলজলা শুটআউট কাণ্ডে গ্রেপ্তার বাবা-ছেলে, উদ্ধার বন্দুক ও কার্তুজ !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- তিলজলা শুটআউট কাণ্ডে অবশেষে গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্ত। মঙ্গলবার গভীর রাতে মহম্মদ সলমন ও তাঁর বাবা মহম্মদ আনওয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কলকাতা থেকে পালানোর ছক কষার সময় তিলজলা ২ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন একটি রিকশা স্ট্যান্ড থেকে তাঁদের আটক করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে একটি বন্দুক, একটি ম্যাগাজিন এবং দু’টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
শুটআউটের ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিল বাবা-ছেলে। তদন্তকারীরা তাঁদের খোঁজে সোর্সদের সক্রিয় রাখেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর মেলে, অভিযুক্তরা অন্ধকারে শহর ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। সেই সূত্র ধরেই ভোর প্রায় ৩টে নাগাদ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সোমবার গভীর রাতে কলকাতার বেনিয়াপুকুর থানা এলাকার তিলজলা রোডে শুটআউটের ঘটনা ঘটে। ঠান্ডা পানীয় চুরির অভিযোগ ঘিরে পাড়ার বচসার জেরে মহম্মদ নিয়াজ ওরফে রাজা নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে সলমনের বিরুদ্ধে। তাঁর পায়ে দু’টি গুলি লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেলে। এলাকার এক প্রৌঢ়ার দোকানের সামনে রাখা রেফ্রিজারেটর থেকে দু’টি ঠান্ডা পানীয়র বোতল উধাও হয়ে যায়। সেই নিয়ে এক তরুণকে সন্দেহ করা হয়। অভিযোগ-প্রতিবাদের মধ্যেই পাশের পাড়া থেকে সুরজ নামে এক যুবককে সালিশির জন্য ডাকা হয়। অন্য পাড়ার বাসিন্দাকে কেন ডাকা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নিয়াজ। তখনকার মতো পরিস্থিতি শান্ত হলেও সন্ধ্যার পর ফের উত্তেজনা ছড়ায়।
বচসার জেরে সলমন নিয়াজকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। রাত একটার পর নিয়াজকে কথা বলার নাম করে বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়। পরিবারের দাবি, বাইরে বেরোতেই গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সলমন আগেও ডাকাতির মামলায় অভিযুক্ত ছিল। অতীতে বিস্ফোরণের ঘটনায় তাঁর একটি পা উড়ে যায় বলেও খবর। আপাতত পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
