একদিনে রাজ্যের পাঁচ আদালতে বোমাতঙ্ক, ইমেল-ফোনে হুমকি ঘিরে চাঞ্চল্য !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মঙ্গলবার রাজ্যের একাধিক আদালতে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ে বোমাতঙ্ক। কলকাতা থেকে আসানসোল, দুর্গাপুর ও মুর্শিদাবাদ একের পর এক আদালতে বোমা রাখার হুমকি পৌঁছয় ইমেল ও ফোনে। ফলে দিনভর আতঙ্ক, তল্লাশি ও নিরাপত্তা ঘিরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।
সবচেয়ে আগে হুমকি আসে কলকাতার সিটি সিভিল কোটে। একটি ইমেলে দাবি করা হয়, আদালত ভবনের ভিতরে বোমা রাখা হয়েছে। ইমেল পাওয়ার পরেই তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। দ্রুত গোটা বিল্ডিং খালি করে দেওয়া হয়। আদালতের বিচারক, আইনজীবী, কর্মী ও সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্নিফার ডগ এনে শুরু হয় তল্লাশি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সেখানে এখনও পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছু উদ্ধার হয়নি। কে বা কারা এই ইমেল পাঠিয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী— তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এর পর বেলা প্রায় ১২টা নাগাদ আসানসোলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। আসানসোল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের জেলা জজের মোবাইলে প্রথমে হুমকি ফোন এসেছে বলে জানা গেলেও পরে স্পষ্ট হয়, আসলে ইমেল মারফত হুমকি বার্তা পাঠানো হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, আদালত চত্বরে বোমা রাখা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। বুধবার ছিল পূর্ণ দিবস কাজের দিন।
মামলা-মোকদ্দমার কারণে বহু সাধারণ মানুষ তখন আদালতে আসছিলেন। আইনজীবী ও বিচারকরাও হাজির হচ্ছিলেন। সেই সময়েই হুমকি ইমেল পৌঁছনোয় কার্যত হুলুস্থুল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
খবর দেওয়া হয় আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটে। দ্রুত পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড আদালত চত্বরে পৌঁছে যায়। মাইকিং করে সকলকে দ্রুত আদালত চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হয়। আইনজীবী থেকে শুরু করে উপস্থিত সাধারণ মানুষ সকলকেই নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়। তল্লাশির জন্য আনা হয় স্নিফার ডগ। গোটা আদালত চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুমকি বার্তায় উল্লেখ ছিল, আদালত ভবনের তিনতলায় বোমা রাখা আছে। এমনকি ইমেলে দাবি করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আরডিএক্স আইইডি রাখা হয়েছে এবং দুপুরের দিকে কয়েকজন মাওবাদী সদস্য কনস্যুলেট ও বিচারকের চেম্বারের কাছে গিয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটাবে। যদিও জেলা জজ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, বিষয়টি ভুয়ো হুমকি বলেই মনে হচ্ছে। তবু পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু নিশ্চিত করে বলতে চাইছে না প্রশাসন।
একই সময়ে হুমকি পৌঁছয় দুরগাপুর সাব ডিভিশনাল কোর্টে ইমেলে দাবি করা হয়, সেখানেও বোমা রাখা হয়েছে। দ্রুত আদালত ভবন খালি করে তল্লাশি শুরু হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনও বিস্ফোরক মেলেনি, তবে তল্লাশি চলছিল।
এ দিনই হুমকি মেইল আসে মুর্শিদাবাদ ডিসট্রিক্ট জাজ অফিসে অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট মামলায় (এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়) জেলা জজ ও অতিরিক্ত দায়রা বিচারকরা যাতে কোনও রকম হস্তক্ষেপ না করেন, সেই মর্মে হুমকি দেওয়া হয়। ইমেলে আদালতে বিস্ফোরণের কথাও উল্লেখ করা হয়। মুর্শিদাবাদ জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু বাক্কার সিদ্দিকি জানান, স্নিফার ডগ দিয়ে গোটা আদালত চত্বরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কিছুদিন আগেই কলকাতা থেকে শিলংগামী একটি বিমানে বোমা রাখা রয়েছে বলে চিরকুট মিলেছিল। বিমানের শৌচাগারে রাখা সেই নোটে লেখা ছিল, বিমানে বোমা রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিমানের ক্রু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে সুরক্ষিত জায়গায় নিয়ে গিয়ে গোটা বিমানে তল্লাশি চালানো হয়। যদিও সেখান থেকেও কোনও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হয়নি। সেই ঘটনারও তদন্ত চলছে।
গত কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে দিল্লির একাধিক স্কুলে ভুয়ো বোমা হুমকি দিয়ে উড়ো ইমেল পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। সেই সব ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা জানার জন্য পুলিশ তদন্ত শুরু করেছিল।
এবার সেই আতঙ্কের ছায়া পড়ল খাস কলকাতার আদালতেও। একের পর এক আদালতে একই দিনে হুমকি পৌঁছনোয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আপাতত সব জায়গাতেই তল্লাশি চলছে। এখনও পর্যন্ত কোথাও বিস্ফোরক না মিললেও সতর্ক রয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন। ইমেলের উৎস এবং এর পিছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে জোরকদমে।
বোমা মেরে দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হবে চুঁচুড়ার কোর্ট বিল্ডিং,এমন হুমকি-মেল এলো জেলা জজের কাছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হতেই উত্তেজনা ছড়ায় হুগলী জেলা জজ আদালতে। চন্দননগর কমিশনারেটের বোম্ব স্কোয়াড তল্লাশি শুরু করে। আদালত প্রবেশের মুখে সকলকে মেটাল ডিটেক্টার দিয়ে তল্লাশি করা হয়। আতঙ্কে জজ কোর্টের একটা দিক প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। সবদিক খতিয়ে দেখছে কমিশনারেট।
