আজকের দিনেতিলোত্তমা

হাইকোর্টের নির্দেশের আগেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ঢুকল

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন না, এই অভিযোগ তুলে হাজার-হাজার মহিলা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে লক্ষ্মীর ভান্ডার বঞ্চনা সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্য সরকারকে এবং কোনওভাবেই উপভোক্তাদের টাকা আটকে রাখা যাবে না।

এই মামলার পরবর্তী শুনানির ঠিক আগেই তড়িঘড়ি ফেব্রুয়ারি মাসের লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বর্ধিত হারে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে দীর্ঘদিন পরে টাকা পেয়ে স্বস্তিতে ওই মহিলারা। যদিও এখনও পাঁচ মাসের বকেয়া টাকা মেলেনি বলে অভিযোগ।

প্রসঙ্গত, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নার বাকচা এবং গোজিনা এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে বঞ্চিত ছিলেন কয়েক হাজার মহিলা। এই অভিযোগ সামনে আসার পর গত ২০ জানুয়ারি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ময়নার বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা সুনিতা মণ্ডল। তাঁর আবেদনের পর ২৯ জানুয়ারি রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

হাইকোর্টের এই নির্দেশের পরই তড়িঘড়ি লক্ষ্মীর ভান্ডারের সদ্য ঘোষিত ১৫০০ টাকা ঢুকতে শুরু করে বাকচা ও গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। দীর্ঘদিন পর টাকা পেয়ে খুশি হলেও ক্ষোভ রয়ে গিয়েছে বকেয়া অর্থ না পাওয়া নিয়ে।

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রাপক এক মহিলা বলেন,
“পাঁচ-ছ’মাস ধরে টাকা ঢোকেনি। এবার নতুন টাকা ঢুকেছে, খুব খুশি আমরা। কিন্তু এখনও পাঁচ মাসের বকেয়া পাইনি।”

এই বিষয়ে ময়না পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেখ শাজাহান জানান,“নতুন বাজেট অনুযায়ী লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ইতিমধ্যেই অ্যাকাউন্টে ঢুকে গিয়েছে। পোর্টালে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা হচ্ছিল, সেটা ঠিক করা হয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে আর এমন সমস্যা হবে না।”

অন্যদিকে বিজেপির বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান প্রসেনজিৎ ভৌমিক বলেন, “লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে আমরা মামলা করেছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে মহিলারা টাকা পাচ্ছিলেন না। বারবার ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশের পরই টাকা ঢুকতে শুরু করেছে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, স্থানীয়দের অভিযোগ বিজেপি করার ‘অপরাধে’ ইচ্ছাকৃতভাবেই এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যদিও প্রশাসনের তরফে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

এখন সব নজর আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির শুনানির দিকে। ওই দিনই বকেয়া পাঁচ থেকে ছ’মাসের লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা আদৌ মিলবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিতে পারে হাইকোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *