নবান্নের আর্জিতে ‘না’, ২৫ আধিকারিককে ট্রেনিংয়ে ডাকে কমিশন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের ব্রিফিং বৈঠক ঘিরে নির্বাচন কমিশন ও নবান্নের মধ্যে প্রশাসনিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। নবান্নের তরফে ছাড়ের আবেদন জানানো হলেও তা সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা সহ রাজ্যের মোট ২৫ জন সিনিয়র আধিকারিককে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের ব্রিফিং ট্রেনিংয়ে হাজির থাকতেই হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় অবজারভারদের জন্য আয়োজিত এই ব্রিফিং বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নামে আগেই জমা পড়া ছাড়ের আবেদন বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে কমিশনের মতে, ওই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে যাঁদের নাম অবজারভার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের সকলকেই বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত দিন ও সময়ে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগের একটি তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট ২৫ জন সিনিয়র প্রশাসনিক আধিকারিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ১৫ জন আইএএস ও ১০ জন আইপিএস অফিসার। তালিকার অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাম রাজ্যের বর্তমান স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা, যিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন।
এই নিয়োগ ঘিরেই আপত্তি জানিয়ে নবান্ন নির্বাচন কমিশনের কাছে পুনর্বিবেচনার আর্জি জানায়। রাজ্যের তরফে জানানো হয়, ভোটের প্রাক্কালে আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তদারকির ক্ষেত্রে শীর্ষ আধিকারিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময়ে তাঁদের রাজ্যের বাইরে পাঠানো হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রসচিবের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্বে পাঠানো হলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে রাজ্য।
এই যুক্তির ভিত্তিতেই নবান্নের তরফে বিকল্প নাম প্রস্তাব করে মোট ১৭ জন আধিকারিককে কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, এমন কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। কমিশনের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় অবজারভারের ভূমিকা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই দায়িত্ব পালনে অভিজ্ঞ আধিকারিকদেরই প্রয়োজন।
বুধবার কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত দ্রুত সকল সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের নজরে আনতে হবে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যাতে কোনও বিভ্রান্তি বা দ্বিধা না থাকে, সেই কারণেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। নির্ধারিত সময়সূচি মেনে উপস্থিত না হলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে তা বিবেচিত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থানের কথা জানার পর নবান্ন ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রসচিব সহ ওই ২৫ জন আধিকারিককে ব্রিফিং ট্রেনিংয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। প্রশাসনিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটের মুখে রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও নজরদারি বাড়ছে।
