কিমের দোরগোড়ায় ১৮ হাজার সেনা ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,সিউল: একদিকে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য, ঠিক সেই আবহেই এবার সুদূর পূর্বে ঘনিয়ে আসছে যুদ্ধের মেঘ। উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বিশাল সামরিক মহড়া শুরু করল আমেরিকা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মহড়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে অশান্তি শুরুর আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর, ‘ফ্রিডম শিল্ড’ নামের এই মেগা মহড়া চলবে আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত। এই অভিযানে সরাসরি অংশ নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সেনা। পেন্টাগন সংখ্যাটি স্পষ্ট না করলেও, কয়েক হাজার মার্কিন সেনা, অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার এবং যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যেই উত্তর কোরিয়ার জলসীমার কাছাকাছি ভিড় জমিয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই মহড়ার আড়ালেই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমেরিকায় বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম হস্তান্তরের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই সরঞ্জামগুলি আসলে ইরান সংলগ্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হচ্ছে। যদিও নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে মার্কিন প্রশাসন এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ।
উত্তর কোরিয়া বরাবরই এই ধরনের যৌথ মহড়াকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি বলে মনে করে। কিম জং উনের প্রশাসনের অভিযোগ, এই মহড়া আসলে উত্তর কোরিয়ায় হামলার একটি ‘ড্রেস রিহার্সাল’ বা প্রাথমিক প্রস্তুতি।
অস্ত্র পরীক্ষা ও সামরিক অভিযানের অজুহাত হিসেবেই আমেরিকা এই পথ বেছে নেয়।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কিম জং উন যেভাবে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাতে এই মহড়া আগুনের ঘৃতাহুতি দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আমেরিকার এই শক্তি প্রদর্শনের জবাবে উত্তর কোরিয়া নতুন কোনো পরমাণু পরীক্ষা বা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পথে হাঁটে কি না।
