রাজ্য পুলিশের ডিজিপিকে শোকজ সুপ্রিম কোর্টের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় গন্ডগোলের অভিযোগ ওঠায় কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। এসআইআর কাজে যুক্ত কর্মীদের ভয় দেখানো, হুমকি ও হিংসার অভিযোগে রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি পীযূষ পান্ডেকে শোকজ করল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ রাজ্য পুলিশের ডিজিকে ব্যক্তিগতভাবে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, গত বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে আসছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এসআইআর-এর হিয়ারিং পর্ব শুরু হতেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তির ছবি সামনে আসে। কোথাও বিডিও অফিসে গিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে, আবার কোথাও বিডিও অফিসের ভিতরে ঢুকে আধিকারিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। একাধিক ঘটনায় শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের নাম জড়ানোর অভিযোগও উঠে।
এই সমস্ত বিষয় সুপ্রিম কোর্টে তুলে ধরে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে অভিযোগ করা হয়, হুমকি, ভয় দেখানো ও হিংসার মাধ্যমে এসআইআর প্রক্রিয়াকে বানচাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকী একাধিক ঘটনায় অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য পুলিশের ডিজিপিকে শোকজ নোটিস জারি করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি পীযূষ পান্ডেকে ব্যক্তিগতভাবে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে—কেন এই ধরনের অভিযোগ সত্ত্বেও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শোকজের জবাবে তিনি কী ব্যাখ্যা দেন, সেদিকেই এখন নজর।
এদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, এসআইআর সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা (ইআরও)। ১৪ ফেব্রুয়ারির পর তাঁদের আরও এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে, যাতে নথি যাচাই সম্পূর্ণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট বার্তা দেয়, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের বাধা বরদাস্ত করা হবে না। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ রাজ্যকে জানিয়ে দেয়, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নির্বাচন কমিশনের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্ব। এসআইআর ঘিরে চলা অশান্তি ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্ট আরও কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।
