ভোটের প্রস্তুতিতে নতুন দায়িত্ব, চাপ বাড়ল বি এল ও-দের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ক্রমশ এগিয়ে আসছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যজুড়ে দ্রুত গতিতে চলছে এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার শেষ পর্বে এসে ফের কাজের চাপ বাড়ল বুথ লেভেল অফিসারদের উপর।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে বুথ স্তরের আধিকারিকদের জন্য একটি নতুন দায়িত্বের কথা জানানো হয়েছে। তবে এই নতুন কাজটি সরাসরি এসআইআর-এর সঙ্গে যুক্ত নয়। নতুন দায়িত্ব হল বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ বিলি করা।
এতদিন এসআইআর কর্মসূচির অধীনে বিএলও-দের মূল কাজ ছিল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করা, সেই ফর্ম পূরণ করিয়ে নেওয়া এবং পরে সেগুলি সংগ্রহ করে কমিশনের কাছে পাঠানো। পাশাপাশি সেই সমস্ত তথ্য ডিজিটালাইজ়ড করার কাজও তাঁরাই করছিলেন। এই বিপুল কাজের চাপেই অনেক বিএলও সমস্যায় পড়েন। সেই কারণেই গত নভেম্বর মাস থেকে একাধিকবার রাজ্যের মুখ্য সিইও-র দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান বিএলও-দের একাংশ।
এই অবস্থার মধ্যেই তাঁদের উপর আরও একটি নতুন দায়িত্ব চাপানো হল। এবার থেকে ভোটার স্লিপ বিলির কাজও বিএলও-দেরই করতে হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এতদিন রাজ্যের অনেক জায়গায় এই কাজ করতেন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা যাচাই করে ভোটার স্লিপ বিলি করতেন। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সিইও দফতর সূত্রে খবর, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও পক্ষপাতহীন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালের দফতর শুক্রবার জানায়, গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে অনেক বিএলও এই কাজ করেননি। কিন্তু নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ভোটার স্লিপ বিলি করা আসলে বিএলও-দেরই দায়িত্ব। তাই এবার সেই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।
বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রতিটি বিএলও- দের উপর গড়ে প্রায় ২৫০টি পরিবার এবং ৯০০ থেকে ১,০০০ জন ভোটারের দায়িত্ব রয়েছে। ফর্ম বিলি, তথ্য সংগ্রহ, ডিজিটাল কাজের পাশাপাশি এবার বুথভিত্তিক ভোটার স্লিপ বিলির কাজ যুক্ত হওয়ায় ফের অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন আবারও রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিএলও, ইআরও ও এইআরও-দের সান্মানিক পারিশ্রমিক দ্রুত ছাড়ার অনুরোধ করা হয়েছে। নানা ক্ষোভ ও চাপের মধ্যেই তাঁরা কাজ করে চলেছেন বলে কমিশনের তরফে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির কাজ এগোলেও, মাঠস্তরের আধিকারিকদের উপর কাজের বাড়তি চাপ নতুন করে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
