ভোটের আগে কাটমানি রুখতে পুলিশের হেল্পলাইন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে উপভোক্তাদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিরোধীরা। সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে এবার ময়দানে নামল পুলিশ। পূর্ব মেদিনীপুরে সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন নম্বর চালু করল জেলা পুলিশ। তবে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় পুলিশের এই পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ৭০৪৭৯৮৯৮০০ নম্বরে ফোন করে সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত যেকোনও অনিয়মের অভিযোগ জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। বাংলার বাড়ি-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কেউ যদি টাকা দাবি করে, ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকল্পের সুবিধা দিতে দেরি করে কিংবা আবেদন খারিজ করে দেয়—সে সমস্ত অভিযোগই জানানো যাবে এই হেল্পলাইন নম্বরে। অভিযোগকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে জেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে বলেন,
“সাধারণ মানুষ পরিচয় গোপন রেখে এই নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগের সঙ্গে যদি অডিয়ো বা ভিডিয়ো প্রমাণ থাকে, তাহলে তার ভিত্তিতে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করতে পারে। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করা হবে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন, দলমত নির্বিশেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জেলার প্রতিটি থানার ওসি ও আইসি-দের কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে ভোটের আগে পুলিশের এই উদ্যোগকে ঘিরে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়েছে বিজেপি। বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি অসীম মিশ্র বলেন, “তৃণমূল নেতাদের দিনের শুরুই হয় মানুষ ঠকানো আর পকেট ভরানোর উদ্দেশ্য নিয়ে। চোর আর কাটমানিদের সংগঠন হলে তাকে তোলামূল বলা যায়। সেই দলের দ্বারা পরিচালিত প্রশাসন এখন বলছে, কেউ কাটমানি নিলে জানাতে! যেখানে পুলিশকে রাস্তায় গাড়ি থেকে তোলা তুলতে দেখা যায়, যেখানে ছোট-বড় তৃণমূল নেতারা প্রকাশ্যেই টাকা তোলে সেখানে এই হেল্পলাইন আসলে আইওয়াশ ছাড়া কিছু নয়। ভোটের আগে এটা একটা গিমিক মাত্র। এই হাস্যকর নাটক মানুষ দেখছে।”
অন্যদিকে পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত রায় বলেন, “প্রথমেই জেলা পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানাই। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা না দেওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পে রাজ্যের প্রায় ২০ লক্ষ মানুষকে প্রথম কিস্তির টাকা দিয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রায় ৮০ হাজার মানুষ ৬০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। আমরা আগেই পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম কেউ টাকা চাইলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানাতে। এখন বলছি, পুলিশকেও জানাতে। তৃণমূল কংগ্রেস দুর্নীতিকে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেয় না।”
ভোটের মুখে পুলিশের এই পদক্ষেপ আদৌ দুর্নীতি রুখতে কতটা কার্যকর হয়, নাকি রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।
