আজকের দিনেবাংলার আয়না

বিএলওর মৃত্যু, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার চুয়াপুর গ্রামপঞ্চায়েতের শ্রীপুরে ভোটের প্রস্তুতি চলাকালীন প্রাণ হারালেন ২৫১ নম্বর বুথের বিএলও মায়া মুখোপাধ্যায়। শুক্রবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত বিএলওর ছেলে রুবেল মুখোপাধ্যায়।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, মায়া মুখোপাধ্যায় নিজের কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাঁর আবেদন মানেনি। কাজের চাপ এবং দায়িত্বের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মায়াকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ-তেও ভর্তি হতে হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে ফিরে আসার পরও তিনি মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাননি।

এদিকে, বুথের দায়িত্ব গ্রহণের সময় শুনানি প্রক্রিয়ার জন্য ৩৫০ জন ভোটারকে ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকছে কিনা, তা নিয়েই মায়া মুখোপাধ্যায়ের মধ্যে দুশ্চিন্তা প্রবল ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি ভয় পাচ্ছিলেন, নাম বাদ হলে বাড়িতে হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ভীতি ও চাপই, পরিবারের মতে, শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রুবেল মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “মা কখনো বিএলও হতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু কমিশনের চাপ ও ভয়ের মুখে বাধ্য হয়ে দায়িত্ব নেন। সবসময়ই চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতেন। মৃত্যুর আগে কয়েকদিন ধরে খুবই অসুস্থ ছিলেন। কাজের চাপ আর দুশ্চিন্তার মধ্যে তিনি শেষ পর্যন্ত সহ্য করতে পারেননি।”

মায়ার মৃত্যুর পর বিএলওদের সংগঠনও সরব হয়েছে। তাঁরা বলছে, “নির্বাচন কমিশন যদি বিএলওদের নিরাপত্তা, শারীরিক ও মানসিক সুবিধা নিশ্চিত করত, তাহলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না। দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার কারণে আমাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।”

স্থানীয় গ্রামবাসীও হতবাক। শ্রীপুর গ্রামে শুক্রবার সকাল থেকেই শোকের ছায়া নেমে আসে। সবাই অবাক হয়ে প্রশ্ন করছেন, ভোটের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাধারণ মানুষ এমনভাবে মারা যেতে পারেন কিনা। এলাকার সমাজকর্মী ও শিক্ষিতরা বলেন, “নির্বাচন শুধু ভোটারদের জন্য নয়, দায়িত্বশীলদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও কমিশনের দায়িত্ব।”

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মায়া মুখোপাধ্যায় সবসময়ই ভেবেছিলেন, চূড়ান্ত তালিকায় সকল ভোটারের নাম ঠিক থাকবে কি না। এই দুশ্চিন্তায় ও মানসিক চাপের মধ্যে তিনি শেষ পর্যন্ত হেরে গেছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এখনও পুরো ঘটনার অনুসন্ধান করছে।

এই ঘটনা শুধু মুর্শিদাবাদের স্থানীয় সমাজে নয়, রাজ্য রাজনীতিতেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিএলওদের সংগঠন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এবং সাধারণ মানুষ সকলেই নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন—এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কতটা নিরাপত্তা ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে?

মায়া মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু, তাদের পরিবার ও এলাকার মানুষদের জন্য একটি গভীর ধাক্কা। একই সঙ্গে এটি জাতীয় পর্যায়ে ভোট-প্রক্রিয়ার দায়িত্ব এবং বিএলওদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *