বাংলার আয়না

বারাসতে রহস্যমৃত্যু ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- নিপা ভাইরাস নিয়ে রাজ্যজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ‘মারণ’ এই ভাইরাসের সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য সতর্ক রয়েছে সব মহল। এর মধ্যেই জ্বর, সর্দি, কাশি ও বমির উপসর্গ নিয়ে ভর্তি এক মহিলার মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

প্রশ্ন উঠছে, ওই মহিলার মৃত্যু কি নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের ফল? তিনি কি রাজ্যে নিপায় প্রথম মৃত্যু? আপাতত এই প্রশ্নগুলির কোনও নিশ্চিত উত্তর মেলেনি। কারণ, নমুনা পরীক্ষা হওয়ার আগেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার। তবে তাঁর উপসর্গ নিপা সংক্রমণের সঙ্গে মিল থাকায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে।

জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের উত্তর কাজীপাড়া ঝাউতলার বাসিন্দা ৫৫ বছরের ওই মহিলা গত ১৯ ডিসেম্বর হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন। উপসর্গ ছিলো সর্দি, কাশি ও বমি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বারাসতের যশোর রোড সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং মাত্র তিন দিনের মাথায়, ২২ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার গুরুত্ব বেড়েছে কারণ, ওই একই হাসপাতালে পরে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হন দুই নার্স। সূত্রের খবর, ওই দুই নার্স ২০ ও ২১ ডিসেম্বর একসঙ্গেই নাইট ডিউটিতে ছিলেন। ডিউটির একদিন পরই তাঁরা দু’জন জ্বরে আক্রান্ত হন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই নার্সদের সংক্রমণের প্রায় ১৫ দিন আগেই ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছিল
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলার লালারস বা রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর আগেই মৃত্যু হওয়ায় তিনি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কিনা, তা নিশ্চিত করা যায়নি। এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, ওই মহিলার চিকিৎসার সময় দুই নার্স তাঁর সংস্পর্শে এসেছিলেন এবং সেখান থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে কেন্দ্র-রাজ্য জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম ওই মহিলার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও সংক্রমণের সম্ভাব্য সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিপায় আক্রান্ত দুই নার্স বর্তমানে আইসিইউ-তে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন কোমামুক্ত হলেও দু’জনেরই অবস্থা এখনও সংকটজনক বলে জানা যাচ্ছে। চিকিৎসায় সাড়া মিলছে বলে জানা গেলেও তাঁরা এখনও পুরোপুরি বিপদমুক্ত নন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর কড়া নজর রাখছেন জয়েন্ট আউটব্রেক টিমের সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *