নাবালক প্রেমিককে বিয়ে সাবালক প্রেমিকার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- একজন ১৯ বছর বয়সী নারী এবং ১৭ বছর বয়সী একটি ছেলে বেশ কিছুদিন ধরে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছিলেন। কয়েক মাস ধরে তারা একে অপরকে ভালোবাসতেন এবং ঠিক করেন যে তারা একসাথে জীবন শুরু করবেন। ছেলেটির বয়স ১৭ বছর, অর্থাৎ সে এখনও আইনের দিক থেকে নাবালক বা শিশু। মেয়েটির বয়স ১৯ বছর, অর্থাৎ সে প্রাপ্তবয়স্ক।
একদিন তাঁরা গোপনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের অনেকের অনুমতি না থাকলেও, ছেলেটি মেয়েটিকে সিঁদুর পরিয়ে বিবাহের মতো একটি আনুষ্ঠানিক কাজ সম্পন্ন করে ফেলে। মেয়েটির বাবা পরে মেয়েকে ছেলেটির বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ছেলেটির পরিবারও প্রথমদিকে বিষয়টিকে মেনে নেওয়ার মতো ইঙ্গিত দেয়।
কাজটা যদি গোপনে থেকেই যেত, তাহলে আর কেউ বুঝত না। কিন্তু কিছু স্থানীয় মানুষ ঘটনাটি সম্পর্কে সন্দেহ করতে থাকেন। কারণ দুইজনের বয়সে অনেক পার্থক্য ছিল এবং ছেলেটি তখনো নাবালক। তাঁরা চাইল্ডলাইন নামে একটি সংস্থাকে বিষয়টি জানান। চাইল্ডলাইনের লোকেরা খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ফালাকাটা থানায় পুলিশকে বিষয়টি জানায়।
এরপর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং মেয়েটিকে গ্রেফতার করে। তাঁকে নাবালকের সঙ্গে বিয়ে করার জন্য আইন অনুসারে মামলা করা হয়েছে। ছেলেটিকে তাঁর বয়স ছোট হওয়ায় কাউন্সিলিং বা সহায়তার জন্য জেলা চাইল্ডলাইন হোমে পাঠানো হয়েছে, যাতে তাঁর ভবিষ্যত সম্পর্কে ঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা যায়।
মেয়েটি গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশকে জানিয়েছে যে সে ছেলেটির জন্য বিবাহ করেছে এবং যদি জরুরি হয়, তিনি “জেল খাটতেও রাজি”, কিন্তু তাঁর প্রেম ভাঙবে না। মেয়েটি বলেছে যে, ছেলের বয়স ১৮ হলে তাঁরা আবার একসাথে থাকতে চাইবে।
এই ঘটনাটি সংবাদে আসার সঙ্গে সঙ্গে জেলাগুলোতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সবাই এই অদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করছেন। ওই ঘটনা নিয়ে মানুষ নতুন করে সচেতনতা ও আইনের গুরুত্ব সম্পর্কে ভাবতে শুরু করেছেন।
ফালাকাটা থানা প্রধান প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি এর মতো ঘটনা আগে কখনো দেখেননি। তিনি বলেন এই ঘটনা সামাজিক দিক থেকেও অনেক বড় এবং এটি নাবালক বিবাহ ও সমাজের সচেতনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
মেয়েটির বিরুদ্ধে আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে, এবং তাঁকে আদালতে তোলা হবে। এই ঘটনার পর ছেলেটিকে নিরাপদে রাখতে এবং তাঁর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ঠিকভাবে করতে চাইল্ডলাইন‑এর মাধ্যমে সহায়তা চলবে।
