ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে উত্তেজনা, হোটেলে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের রাঙালিবাজনা এলাকায় শনিবার চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একটি হোটেলের পাশের ঘর থেকে এক আদিবাসী যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর ক্ষুব্ধ জনতা হোটেলে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চারটি থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
মৃত যুবকের নাম সুখেশ ওরাঁও। তিনি গোপালপুর চা বাগানের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ান হাইওয়ের ধারে দলদলিয়া এলাকার একটি হোটেলে কাজ করতেন। পরিবারের দাবি, গত তিন দিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে হোটেলের একপাশের একটি ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বিকেলে উত্তেজিত জনতা হোটেলে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হোটেলের সামনে থাকা দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং বাইরের দুটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দমকলের একটি ইঞ্জিন পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মাদারিহাট, বীরপাড়া, জয়গাঁও ও হাসিমারা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ অনেকটাই স্পষ্ট হবে।
এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মিঠুন ওরাঁও নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সমাজসেবী পরিমল ওরাঁওও দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
