ছত্তিশগড়ে আটক তিন বাঙালি কিশোর, বাংলাতে কথা বলায় অভিযুক্ত তাঁরা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- রুজি–রোজগারের সন্ধানে গুজরাটের সুরাটে কাজে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ছত্তিশগড়ে রেল পুলিশের হাতে আটক হল পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম এলাকার তিন কিশোর। পরিবারগুলির অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই ট্রেন থেকে নামিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। যদিও দলের সঙ্গে থাকা এক যুবকের দাবি, ভাষা নয়।নাবালক হওয়ার কারণেই রেল পুলিশ ওই তিন কিশোরকে আটক করেছে।
আটক কিশোরদের মধ্যে রয়েছে কার্তিক দাস (১৬), রাকেশ দাস ও রতন দাস। কার্তিক ও রাকেশ বহরান জয়দুর্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। রতন পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। তিনজনই কেতুগ্রামের গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের ঝামটপুর গ্রামের দাসপাড়ার বাসিন্দা। কার্তিকের বাবা পূর্ণচন্দ্র দাস ও মা সুখীদেবী দিনমজুর।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ন’জনের একটি দল শুক্রবার সুরাটের একটি পাঁউরুটি কারখানায় কাজে যোগ দিতে রওনা দেয়। যাত্রাপথে ছত্তিশগড়ে ট্রেন পৌঁছনোর পর রেল পুলিশ তিন কিশোরকে আলাদা করে নামিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁদের রায়পুরে নিয়ে গিয়ে রেল পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।
রাকেশের বাবা বাণেশ্বর দাস বলেন, “আমার ছেলে-সহ ওই তিনজন মাস দেড়েক আগেও সুরাটে কাজে গিয়েছিল। দু’সপ্তাহ আগে বাড়ি ফিরে আসে। ফের কাজে যাওয়ার সময় শনিবার সন্ধ্যায় ফোন করে জানায়, ছত্তিশগড় স্টেশনে ট্রেন থেকে নামানো হয়েছে। তারপর পুলিশ আটক করেছে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের প্রধান গোপাল হাজরার অভিযোগ, “হিন্দিতে কথা বলতে না পারার কারণেই রেল পুলিশ তিন কিশোরকে আটক করেছে। বাংলা বলাই তাদের অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
এনিয়ে কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার নতুন নয়। বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরে তুলে ধরা হয়েছে। যাতে দ্রুত ওদের নিরাপদে উদ্ধার করে বাড়ি ফিরিয়ে আনা যায়, সেই চেষ্টা চলছে।”
অন্যদিকে, দলের সঙ্গে থাকা এক যুবকের দাবি, ভাষার কারণে নয়, নাবালক হওয়াতেই তিন কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বয়সের প্রমাণপত্র দেখানোর পর দলের অন্য সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি ঘিরে কেতুগ্রাম জুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
