আজকের দিনেতিলোত্তমা

এসআইআর নিয়ে ফের চাপানউতোর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- এসআইআর প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। কিন্তু শেষ ধাপে এসেও এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিতর্ক ও চাপানউতোর থামছে না। এবার সরাসরি অভিযোগ তুলল রাজ্য সরকার। তাঁদের দাবি, জাতীয় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ-বি আধিকারিকদের নামের ডেটাবেস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে। এই অভিযোগ সামনে এনে নবান্ন থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তি ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জল্পনা।

এসআইআর সংক্রান্ত কাজের জন্য রাজ্য সরকার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে মোট ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিকের নাম জমা দিয়েছে। মঙ্গলবার নবান্নের তরফে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই তালিকাকেই বিকৃতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজ্যের দাবি, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে এই ডেটাবেসকে ভুলভাবে তুলে ধরছে, যাতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনে যে গ্রুপ-বি কর্মচারীদের তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত পে-লেভেল বা বেতন কাঠামোর মানদণ্ড মেনেই প্রস্তুত করা হয়েছে। অর্থাৎ, গ্রুপ নির্ধারণে কোনও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা ব্যতিক্রম করা হয়নি, বরং প্রচলিত সরকারি নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে।

নবান্ন আরও জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের ৯ ফেব্রুয়ারির পর্যবেক্ষণের পরই এই তালিকা কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ মেনেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি রাজ্যের। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ এই শ্রেণিবিভাগ স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে এবং তা বিদ্যমান নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেই নির্ধারিত নিয়ম মেনেই অত্যন্ত সতর্কতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে গ্রুপ-বি কর্মচারীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে কোনও ধরনের বিচ্যুতি বা অনিয়ম হয়নি বলেই দাবি করা হয়েছে।

এরপরই ডেটাবেস বিকৃতির অভিযোগ তুলে নবান্ন জানিয়েছে, সম্প্রতি কিছু অংশ থেকে যে অনিয়ম বা কারচুপির অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং বাস্তবতার সঙ্গে যার কোনও সম্পর্ক নেই। রাজ্যের বক্তব্য, ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে ‘কিছু স্বার্থান্বেষী মহল’ বলতে কাদের উদ্দেশে এই মন্তব্য, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে এই অভিযোগের নিশানা কি নির্বাচন কমিশন, নাকি অন্য কোনও মহল? ওয়াকিবহালদের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়েও রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যে চাপানউতোর চলছে, এই বিজ্ঞপ্তি তারই ইঙ্গিত বহন করছে।

সব মিলিয়ে, এসআইআর শেষের পথে হলেও বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। গ্রুপ-বি আধিকারিকদের তালিকা ও তার ডেটাবেস ঘিরে যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, তা রাজ্য-কমিশন সম্পর্ককে আরও এক দফা আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *