আজকের দিনেতিলোত্তমা

আশাকর্মীদের বিক্ষোভে স্তব্ধ কলকাতা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বুধবার ফের রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নামলেন আশাকর্মীরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন তাঁরা স্বাস্থ্যভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন। সেই অভিযান ঘিরে সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে স্বাস্থ্যভবন চত্বর ও কলকাতার একাধিক এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগে থেকেই ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্বাস্থ্যভবনের চারপাশে লোহার ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এলাকা।
ব্যারিকেড টপকে স্বাস্থ্যভবনের দিকে এগোতেই আশাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ধরপাকড় শুরু করে বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকজন আশাকর্মীকে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাস্থ্যভবনের সামনেই রাস্তায় বসে বিক্ষোভে সামিল হন আন্দোলনকারীরা, ফলে গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভস্থলে বসেই এক আশাকর্মী বলেন, “যতই ধরপাকড় করুক, আমরা এখানেই বসে থাকব। দেখি সরকার আমাদের জন্য কী করে।”
পুলিশ ভ্যানের ভিতর দাঁড়িয়ে আরেক আশাকর্মীর বক্তব্য, “আমরা প্রায় ৮০ হাজার আশাকর্মী। আমরা চোর ডাকাত নই। ন্যায্য দাবি আদায় করতে এসেছি। ২০২৬ সালে আমরা সব জবাব দেখে নেব।”

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যভবন অভিযানের অংশ হিসেবে শিয়ালদহ স্টেশনেও আশাকর্মীদের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ, স্টেশন থেকেই তাঁদের বাইরে বেরোতে দেওয়া হয়নি। RPF ও পুলিশের বাধায় শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরেই অবস্থান বিক্ষোভে বসেন তাঁরা। বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও জানা গেছে।

বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা এবং উত্তরবঙ্গ থেকেও বিপুল সংখ্যক আশাকর্মী কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। তবে পথে পথে পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয় আন্দোলনকারীদের। কোথাও মিছিল আটকে দেওয়া হয়, কোথাও আবার গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। অনেক জায়গায় পুলিশের নজর এড়াতে পোশাক বদলে সাধারণ যাত্রীর মতো ট্রেনে চড়ে কলকাতায় পৌঁছন আশাকর্মীরা।

বাঁকুড়া স্টেশনে বুধবার ভোর থেকেই বিপুল সংখ্যক মহিলা পুলিশ মোতায়েন ছিল। অভিযোগ, কলকাতাগামী ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করলেই আশাকর্মীদের স্টেশনে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। কয়েকজনকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। একই রকম উত্তেজনার ছবি ধরা পড়ে মেদিনীপুর স্টেশনেও। সেখানে ট্রেনে উঠতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। ক্ষোভে রেললাইনের উপর শুয়ে বিক্ষোভ দেখান কয়েকজন আশাকর্মী।
আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম তাঁদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ডেকে পাঠিয়েছিলেন। বেতন বৃদ্ধির দাবি জানাতেই তাঁরা কলকাতায় আসছিলেন। তবে পুলিশের বাধার কারণে অনেকেই স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছতে পারেননি বলে অভিযোগ।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে রাজ্যের আশাকর্মীরা মাসিক ৫,২৫০ টাকা ভাতা পান। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্তত ১৫ হাজার টাকা মাসিক ভাতা করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলনে রয়েছেন তাঁরা। বুধবারের স্বাস্থ্যভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যজুড়ে চরম উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *