মনোজ আগরওয়ালের দেখা করেই ছাড়বেন!রাতভর ধর্নার পরও অনড় মীনাক্ষী-সহ বাম নেতৃত্ব
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। সৌজন্যে—নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার শেষে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ৬৪ লক্ষ (সঠিকভাবে ৬৩,৬৬,৯৫২) মানুষের নাম। এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ‘গণছাঁটাই’-এর প্রতিবাদে সরব হয়েছে বামফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে বিশাল ধরনা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল বামপন্থী দলগুলি।
বিক্ষোভের মূল সুর: “একজনের নামও বাদ দেওয়া যাবে না”। পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবিতে সিইও দপ্তরের সামনে লাগাতার বিক্ষোভ বামেদের। খোলা আকাশের নিচেই বুধবার রাত কাটানোর পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়িয়েছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক বাম শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, সিইও মনোজ আগরওয়ালের দেখা না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। এমনকী তিনটের সময় সমাবেশও রয়েছে বামেদের।
বাম নেতাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে আসলে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, কোনো স্বচ্ছ পদ্ধতি ছাড়াই লক্ষ লক্ষ মানুষকে ‘মৃত’, ‘স্থানান্তরিত’ বা ‘নিখোঁজ’ বলে তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রতিটি বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার নিশ্চয়তা মিলছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে। নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিয়ে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, ”কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া চলবে না। ভোটার লিস্টে ভোটাররা থাকবেন না, এদিকে কমিশনের আধিকারিকরা বহাল তবিয়তে থাকবেন তা চলবে না।” রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মনোজ আগরওয়াল তাঁদের সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেই হুঁশিয়ারি শীর্ষ বাম নেতৃত্বের। এমনকী ডেপুটেশন দিয়েই যাবেন বলেও দাবি।
এদিনের ধরনা মঞ্চ থেকে সিআইটিইউ এবং সিপিআই(এম) নেতৃত্ব হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া মানে সাধারণ মানুষকে নাগরিকত্বহীন করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র। সরকারি আধিকারিকদের একাংশ শাসক দলের কথায় কান দিয়ে এই কাজ করছে।” বামেদের দাবি—
১. অবিলম্বে বাদ পড়া ৬৩ লক্ষ নামের তালিকা বুথ ভিত্তিক জনসমক্ষে আনতে হবে।
২. যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের কেন বাদ দেওয়া হলো তার স্পষ্ট কারণ জানাতে হবে।
৩. প্রতিটি বৈধ ভোটারকে পুনরায় নাম তোলার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ ও সময় দিতে হবে।
বুধবারই টি বোর্ডের সামনে থেকে বামেদের মিছিলে হাঁটেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তীরা। চক্রান্ত করে ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দেওয়া যাবে না বলে তাঁরা দাবি জানান। সিইও দফতরের এসে সিইও মনোজ আগরওয়ালের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা জানান সেলিমরা। তবে সিইও দেখা করেননি। অধস্তন অফিসারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে বলেন। কিন্তু সেই স্মারকলিপি সিইও-কেই দেবেন। এরপরই সিদ্ধান্ত নেয় বাম নেতা কর্মীরা রাস্তায় থাকবেন। গতকাল সারা-রাত ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যান তাঁরা।
