রাষ্ট্রপতি শাসন কখন জারি হয়? হলে কী হয়?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ- ভারতের শাসনব্যবস্থা যখন আর সংবিধান অনুযায়ী চালানো সম্ভব হয় না, তখনই কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে জারি হয় ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’। এটি মূলত রাজ্যের নির্বাচিত সরকারকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দিয়ে রাজ্যকে সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে আনার একটি প্রক্রিয়া।
কখন জারি হতে পারে রাষ্ট্রপতি শাসন? সংবিধান অনুযায়ী কয়েকটি বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা যায়। ১/ যদি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপাল মনে করেন যে রাজ্যের সরকার সংবিধান মেনে কাজ করতে পারছে না এবং তিনি সেই মর্মে রাষ্ট্রপতিকে রিপোর্ট পাঠান। ২/ নির্বাচনের পর কোনো দল বা জোট যদি সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়। ৩/ বিধানসভায় অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে বর্তমান সরকার পড়ে গেলে এবং বিকল্প কোনো সরকার গঠনের সম্ভাবনা না থাকলে। এছাড়া কোনো রাজ্য যদি কেন্দ্রের দেওয়া সাংবিধানিক নির্দেশ পালন করতে ব্যর্থ হয় (ধারা ৩৬৫ অনুযায়ী)।
কোন ক্ষমতা বলে এটি জারি হয়?
ভারতীয় সংবিধানের অষ্টাদশ ভাগে জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
নাগরিক জীবনে এর প্রভাব
রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি এবং পরোক্ষ উভয় ধরনের প্রভাব পড়ে। আপনি যে বিধায়ককে ভোট দিয়ে জিতিয়েছিলেন, তাঁর হাতে আর কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকে না। মন্ত্রীসভা ভেঙে দেওয়া হয়। রাজ্যের শাসনভার চলে যায় রাজ্যপালের হাতে। তিনি সাধারণত আইএএস অফিসারদের পরামর্শে রাজ্য চালান। ফলে আমলাতান্ত্রিক প্রভাব বেড়ে যায়। রাজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় আইন তখন রাজ্য বিধানসভার বদলে দেশের সংসদ তৈরি করে।
রাষ্ট্রপতি শাসনে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার সাধারণত কেড়ে নেওয়া হয় না (যা জাতীয় জরুরি অবস্থার সময় হতে পারে)। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি হতে পারে। রাষ্ট্রপতি শাসন বাতিলের ক্ষমতা একমাত্র রয়েছে রাষ্ট্রপতির কাছেই। এই পরিসরে সংসদের সম্মতির প্রয়োজন নেই।
রাষ্ট্রপতি শাসন হলো একটি সাময়িক ব্যবস্থা। সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার পর এটি সাধারণত ৬ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তবে বিশেষ প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। সাম্প্রতিক অতীত মহারাষ্ট্র, মণিপুরের ক্ষেত্রেও এই একই ধারা দেখা গিয়েছিল। এই সময়কালে কার্যনির্বাহী প্রধান হিসাবে প্রশাসন চালান রাজ্যপাল। রাষ্ট্রপতি নজরদারি করেন।
