নিজের পদত্যাগে কী লিখলেন আনন্দ বোস?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ- লোকসভা ভোটের আবহে সরগরম পশ্চিমবঙ্গ। আর ঠিক এই সন্ধিক্ষণে বাংলার প্রশাসনিক মহলে ঘটে গেল এক বড়সড় পটপরিবর্তন। আচমকাই রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর পরিবর্তে বাংলার নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন সিবিআই ও আইবি-র প্রাক্তন দুঁদে কর্তা আর এন রবি।
শনিবার সকালে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে পদত্যাগের ঘোষণা করেন সিভি আনন্দ বোস। কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থাকলেও বোসের বার্তায় ছিল কৃতজ্ঞতার সুর। তিনি লেখেন, “বাংলায় আমার ইনিংস শেষ হতে চলেছে। বাংলার মানুষের স্নেহ ও শুভেচ্ছার কাছে আমি চিরঋণী। এবার নিজের রাজ্য কেরলমে ফিরে গিয়ে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করব।” তিনি আরও জানান, জাতীয় নেতৃত্বের নির্দেশেই তিনি নিজের রাজ্যে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তাঁর উত্তরসূরি আর এন রবিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বাংলার নবনিযুক্ত রাজ্যপাল আর এন রবি এর আগে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো-র প্রাক্তন উচ্চপদস্থ আধিকারিক হিসেবে তাঁর বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করেই ভোটের আগে তাঁকে বাংলায় পাঠানো হচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। অন্যদিকে, কেরল থেকে সরিয়ে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল পদে নিয়ে আসা হয়েছে রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকরকে।
রাজ্যপাল বদলের এই প্রক্রিয়ায় ফের কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের সুর শোনা গেল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নতুন রাজ্যপাল নিয়োগের আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। নতুন রাজ্যপাল নিয়োগের বিষয়টি তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন। ভোটের ঠিক আগে একজন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা আধিকারিককে রাজভবনের দায়িত্বে আনা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। বিরোধীরা একে রুটিন বদল বললেও, শাসক শিবিরের একাংশ এর নেপথ্যে অন্য সমীকরণ দেখছে।
