জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব! পরিকল্পনা তৃণমূলের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- রাজ্যে লোকসভা বা বিধানসভা উপনির্বাচন আসুক না কেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এবার সংঘাত এক অন্য মাত্রা পেতে চলেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি ইমপিচমেন্ট বা অপসারণের প্রস্তাব আনার এক ‘মেগা পরিকল্পনা’ নিচ্ছে ঘাসফুল শিবির। আর এই রাজনৈতিক কৌশলের ভরকেন্দ্র হতে চলেছে খোদ তিলোত্তমা কলকাতা। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই দু’দিনের জন্য রাজ্য সফরে আসছেন জ্ঞানেশ। ঠিক সেই সময় থেকেই শুরু হচ্ছে সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব। আর সেই সমান্তরাল মুহূর্তকেই রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চাইছে তৃণমূল শিবির।
সূত্রের খবর, জ্ঞানেশের কলকাতা সফরের মধ্যেই লোকসভায় ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের নোটিস জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তৃণমূলের। নিয়মমাফিক লোকসভায় এই প্রস্তাব আনতে প্রয়োজন অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বিরোধী শিবিরে সমর্থন জোগাড়ের কাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রয়োজনে রাজ্যসভায় ৫০ জন সাংসদের সই-সহ প্রস্তাব আনার বিকল্প পথও খোলা রাখা হয়েছে। যদিও সংখ্যার নিরিখে লোকসভাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ঘাসফুল শিবির।
তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত রাজ্যের শাসক দলের স্বার্থে আঘাত করেছে এবং নিরপেক্ষতার মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের মূল অভিযোগগুলি অনেক। রাজ্যের প্রশাসনিক রদবদলের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করার অভিযোগ।নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সুবিধা করে দেওয়ার জন্য ভোটের নির্ঘণ্ট বা নিয়মাবলি সাজানোর অভিযোগ।বাংলার মানুষের রায়ের ওপর প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা।
তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং এটি দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে মানুষের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চায় যে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো বাংলার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। বিশেষ করে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি তৃণমূলের একটি বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হতে পারে।
