বিধানসভায়, জয়ের সার্টিফিকেট নিলেন তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীরা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: সমস্ত টানাপোড়েন আর আইনি জট কাটিয়ে শেষপর্যন্ত রাজ্যসভার বৈতরণী পার হলেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। সোমবার বিধানসভা থেকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের শংসাপত্র হাতে নিলেন তিনি। তবে সার্টিফিকেট নিতে আসার পথেও তাঁকে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের চার প্রার্থীও এদিন তাঁদের জয়ের শংসাপত্র গ্রহণ করেছেন।
গত ৫ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন রাহুল সিনহা। অভিযোগ ওঠে, তাঁর পূর্বসূরির ফর্ম ‘টুকলি’ করতে গিয়ে নিজের মনোনয়ন পত্রে বিস্তর ভুলভ্রান্তি করে ফেলেছেন তিনি। এই নিয়ে সরব হয় তৃণমূল কংগ্রেস। ভুল থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁর ফর্ম গৃহীত হলো, সেই প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল জোড়া-ফুল শিবির। কমিশনের নির্দেশে শেষ মুহূর্তেও প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে হয় বিজেপি প্রার্থীকে। একসময় তাঁর জয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও শেষপর্যন্ত স্ক্রুটিনিতে পাশ করে যান তিনি।
এবারের রাজ্যসভা নির্বাচনে বাংলার পাঁচটি শূন্য আসনের জন্য লড়াই ছিল মূলত একতরফা। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে তৃণমূলের চারটি ও বিজেপির একটি আসন পাওয়া নিশ্চিত ছিল। তৃণমূল তাদের প্রার্থী নির্বাচনে এবার বিশেষ চমক দিয়েছে:
রাজীব কুমার: রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি ও দুঁদে পুলিশ অফিসার।
মেনকা গুরুস্বামী: সমকামীদের অধিকার নিয়ে লড়াই করা সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী।
কোয়েল মল্লিক: টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
বাবুল সুপ্রিয়: দু’বারের লোকসভা সাংসদ ও বর্তমান রাজ্যের মন্ত্রী।
সংসদের উচ্চকক্ষে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে এই চারজনকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
সোমবার বিধানসভার করিডরে দেখা গেল এক বিরল রাজনৈতিক সৌজন্যের ছবি। রাহুল সিনহা যখন জয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে বেরোচ্ছেন, তখন তাঁর মুখোমুখি হন তৃণমূলের বাবুল সুপ্রিয়। যুযুধান দুই শিবিরের নেতা হওয়া সত্ত্বেও একে অপরের হাত ধরে অভিনন্দন জানান। রাজনীতির ময়দানে কাদা ছোড়াছুড়ি চললেও, সংসদীয় গণতন্ত্রের আঙিনায় এই ছবি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূলের চার প্রার্থীর মধ্যে বাবুল সুপ্রিয়, কোয়েল মল্লিক এবং রাজীব কুমার নিজে উপস্থিত থেকে সার্টিফিকেট নিলেও, মেনকা গুরুস্বামী দিল্লিতে থাকায় সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর হয়ে শংসাপত্র গ্রহণ করেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। আগামী ১৬ মার্চ এই ভোট হওয়ার কথা থাকলেও, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় ভোটগ্রহণের আর প্রয়োজন পড়ছে না।
