জগদ্দলে এবার ‘পুলিশ বনাম রাজনীতি’: মুকুলের একসময়ের ছায়াসঙ্গী রাজেশ কুমারই কি বিজেপির তুরুপের তাস?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, উত্তর ২৪ পরগনা: সময়টা ২০১৯। লোকসভা ভোটের উত্তপ্ত আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন রাজীব কুমারকে সরিয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে রাজেশ কুমারকে বসিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সাত বছর পর সেই দুঁদে পুলিশ আধিকারিকই এখন রাজনীতির ময়দানে গেরুয়া শিবিরের বড় ভরসা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বাজি ১৯৯০ ব্যাচের প্রাক্তন আইপিএস রাজেশ কুমার। বিপক্ষে পোড়খাওয়া রাজনীতিক তথা তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী সোমনাথ শ্যাম।
কেন রাজেশ কুমারকে নিয়ে এত চর্চা?
রাজেশ কুমারের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক সফরনামা বেশ রোমাঞ্চকর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর প্রার্থীপদ পাওয়া কেবল চমক নয়, বরং দীর্ঘদিনের ‘যোগাযোগ’-এর ফসল।
মুকুল রায়ের ছায়াসঙ্গী: ইউপিএ জমানায় সৌগত রায়ের ব্যক্তিগত সচিব থাকলেও, রাজেশ কুমার পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন মুকুল রায়ের হাত ধরে। মুকুল রায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তিনি।
দিল্লি কানেকশন: মনমোহন সরকারের পতনের পর বিজেপির মন্ত্রী চন্দ্রেশ কুমারী কাটৌচের ওএসডি হিসেবে কাজ করার সময় থেকেই সঙ্ঘ পরিবার এবং বিজেপি নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে প্রবেশ করেন তিনি। শোনা যায়, ২০১৪ সালে তৃণমূলের সঙ্গে মুকুলের সাময়িক দূরত্বের সময় সন্ধি স্থাপনে নেপথ্য কারিগর ছিলেন এই রাজেশই।
শুভেন্দু ঘনিষ্ঠতা: বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজেশ কুমার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গুডবুকেও তাঁর নাম রয়েছে প্রথম সারিতে।
জগদ্দলের রাজনৈতিক সমীকরণ এবার বেশ জটিল। একদিকে রয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম, যিনি গত নির্বাচনে ১৮ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছিলেন। এলাকার সংগঠনের ওপর তাঁর দখল প্রশ্নাতীত। অন্যদিকে, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে ময়দানে নেমেছেন রাজেশ কুমার। সোমনাথ শ্যাম তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমান বিধায়ক জনভিত্তি ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা।
রাজেশ কুমার বিজেপি প্রাক্তন সিপি (কলকাতা)
২০১৯ সালে যাকে নির্বাচন কমিশন কলকাতার পুলিশ প্রধান করেছিল, ২০২৬-এ তিনি জনতার দরবারে ভোটপ্রার্থী। একদা পুলিশি উর্দি পরে আইন সামলানো এই আধিকারিক কি পারবেন সোমনাথ শ্যামের রাজনৈতিক দুর্গ চুরমার করতে? নাকি অভিজ্ঞ রাজনীতিকের দাপটেই ফিকে হয়ে যাবে প্রাক্তম আইপিএস-এর ম্যাজিক? জগদ্দলের এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।
