এবার মামলা সাজাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বড় পদক্ষেপ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়া দিল্লি: দেশের বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটাতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। এবার থেকে শীর্ষ আদালতের মামলার তালিকা তৈরি এবং কোন মামলা কোন বিচারপতির বেঞ্চে যাবে, সেই বিন্যাস নির্ধারণে ব্যবহার করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে বলে আইনি মহল সূত্রে খবর।
কেন এই সিদ্ধান্ত? সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিই হলেন ‘মাস্টার অফ রস্টার’। তবে মামলা লিস্টিং বা শুনানির ক্রমতালিকা তৈরির দায়িত্ব থাকে রেজিস্ট্রারদের ওপর। দীর্ঘ সময় ধরে এই ব্যবস্থায় একাধিক ত্রুটি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত লক্ষ্য করেছেন যে, পুরনো প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কাজে ধীরগতি ও ফাঁকফোঁকর থেকে যাচ্ছে। মামলা লিস্টিং নিয়ে মামলাকারীদের পক্ষ থেকে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অনেক ক্ষেত্রে ‘অযোগ্য’ কর্মীদের গাফিলতির কারণে জরুরি মামলার শুনানিতে দেরি হচ্ছে। এই সমস্ত অভিযোগের স্থায়ী সমাধান এবং মানবিক হস্তক্ষেপের কারণে তৈরি হওয়া পক্ষপাতিত্ব দূর করতেই প্রযুক্তির আশ্রয় নিচ্ছে শীর্ষ আদালত।
এআই ব্যবহারে কী সুবিধা হবে? আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ফলে,
স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: সফটওয়্যারের মাধ্যমে মামলার গুরুত্ব বুঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকা তৈরি হবে, ফলে কারচুপির সুযোগ থাকবে না।
দ্রুত শুনানি: পুরনো মামলার জট কাটাতে এবং সঠিক বেঞ্চে দ্রুত মামলা পাঠাতে এআই কার্যকরী ভূমিকা নেবে।
নির্ভুল বিন্যাস: মানুষের ভুল বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে বিচারপ্রক্রিয়া আরও মসৃণ হবে।
একটি প্রথম সারির আইনি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া শুরু হলেও, সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে তা ভারতীয় বিচারবিভাগের ইতিহাসে একটি আমূল পরিবর্তন বা ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে গণ্য হবে।
