ওরা বাঁচাতে পারতো, তবু কিছু করেনি” আরজিকরের ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ মৃতের বাবার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ফের বিতর্কের কেন্দ্রে আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল । আজ সকালে হাসপাতালে ট্রমা কেয়ার বিভাগের লিফটে এক ব্যক্তির মৃতদেহ পাওয়া যায় । সেই মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্নের মুখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ । মৃত দমদমের বাসিন্দার বাবার অভিযোগ তার ছেলেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাঁচাতে পারতো তো তাদের গাফিলতির কারণে ছেলে প্রাণ হারালো।
ছেলেকে অস্ত্রোপচার করাতে এসে এ দিন সকালে আরজি কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে এসে মর্মান্তিক ভাবে প্রাণ হারান দমদমের বাসিন্দা অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪০ বছর বয়সি ওই যুবক অসুস্থ পুত্র ও স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালের পাঁচতলায় যাওয়ার সময়ে লিফটে আটকে পড়েন। লিফটটি উপরে যাওয়ার বদলে বেসমেন্টে এসে আটকে যায়। বন্ধ লিফটের ভিতর থেকে তাঁদের আর্তচিৎকার শুনে সেখানে ছুটে আসেন আত্মীয় পরিজনেরা। লিফটের বাইরেই ছিলেন যুবকের বাবা। তিনি অভিযোগ করেছেন, সেখানে উপস্থিত হাসপাতাল কর্মী ও পুলিশের হোমগার্ডের কাছে উদ্ধার করার জন্য আর্জি জানিয়েছিলেন। হাসপাতালের কর্মীরা তাঁকে জানান, লিফটের চাবি PWD অফিসে আছে। লিফটের উপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফোন নম্বর লেখা থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগ করা যায়নি। উদ্ধারের উপায় না দেখে দমকলকে ফোন করার কথাও বলেন যুবকের বাবা। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, কেউই তাঁর কথায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি। অরূপ, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধারের কোনও উদ্যোগ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। প্রায় ২ ঘণ্টা পরে হাতুড়ি নিয়ে লিফট ভাঙার চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছেন মৃতের বাবা। তার পুত্রবধূ ও নাতিকে উদ্ধার করা গেলেও ছেলেকে উদ্ধার করা যায়নি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আরজি কর হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছান কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ)। অরূপের বাবা তাঁর কাছেও কর্মীদের উদাসীনতার বিষয়ে অভিযোগ জানান। তিনি অভিযোগ করেন , ছেলেকে উদ্ধারের জন্য কর্মীদের কাছে আর্জি জানানোয় তাঁকে রীতিমতো ধমকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত অরূপ বাবুর বাবার অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। লিফট ও উদ্ধার কাজে দেরি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের লিফ্টগুলি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকে মূলত বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পূর্ত বিভাগ। শুক্রবার সকালের ঘটনার পরেই লিফ্ট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বিভাগগুলির কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ । রিপোর্ট আসার পর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।
