আজকের দিনেভারত

​যুদ্ধের আবহেও বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে সংকট নেই, সংসদে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা, যার আঁচ এসে পড়ছে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। রান্নার গ্যাসের আকাল আর ক্রমবর্ধমান দামের চাপে যখন নাজেহাল মধ্যবিত্ত, ঠিক তখনই দোসর হিসেবে হাজির হতে চলেছে গ্রীষ্মের দাবদাহ। গরমে এসি, পাখার ব্যবহার বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা যে তুঙ্গে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য। এমতাবস্থায় ‘বিদ্যুৎ সংকট’ নিয়ে তৈরি হওয়া আশঙ্কার মেঘ কাটাতে সোমবার সংসদে দাঁড়িয়ে দেশবাসীকে অভয় দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

​প্রধানমন্ত্রী জানান, আসন্ন গ্রীষ্মের কথা মাথায় রেখে সরকার আগেভাগেই প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলি হলো-
কয়লার পর্যাপ্ত মজুত: দেশের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার কোনো অভাব নেই।
সতর্ক নজরদারি: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রতিনিয়ত নজর রাখা হচ্ছে।
​বিকল্প শক্তিতে জোর: সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে এবং পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনে বিশেষ উৎসাহ দিচ্ছে কেন্দ্র।
​রান্নার গ্যাস ও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার কী কী করছে, তার একটি খতিয়ান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,
আমদানিতে বৈচিত্র্য: ভারত এখন কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। বর্তমানে ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে।
​নিরাপদ সরবরাহ: যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের তেলবাহী জাহাজগুলি নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে দেশে পৌঁছাচ্ছে।
​সাশ্রয়ী পরিবহন: জ্বালানি সাশ্রয় করতে ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) বাস, মেট্রো এবং রেলের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে।
​”শক্তিই অর্থনীতির মেরুদণ্ড। বিশ্বযুদ্ধের আবহেও ভারতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব যাতে ন্যূনতম থাকে, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।” — নরেন্দ্র মোদি, প্রধানমন্ত্রী

​সংসদে এই অভয়বাণী দেওয়ার ঠিক আগেই, গত রবিবার উচ্চপর্যায়ের এক পর্যালোচনা বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলপিজি এবং এলএনজি-র জোগান স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আমজনতার দৈনন্দিন জীবনে যাতে টান না পড়ে, তার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তার সবটুকুই করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *